বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপের সৃষ্টি হওয়ায় বরিশালে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বরিশাল নগরীর মূল সড়কসহ নীচু এলাকা। এ ছাড়া আরও দুই দিন বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আজ শুক্রবার বরিশালের কীর্ত্তনখোলা নদীর পানি বিপদ সীমার ৩০ সেন্টিসবটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে বরিশাল নগরীর ও নদীর তীরবর্তী পলাশপুর ও রসুলপুর এলাকা প্লাবিত হয়। নদীতে ভাটা শুরু হলে রাতে পানি নেমে গেলেও নীচু এলাকাগুলোতে এখনও কিছু কিছু জায়গায় পনি জমে আছে। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব এলাকার মানুষদের।
আজ শনিবার সকাল থেকে আকাশ মেঘলা রয়েছে। সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। নদীতে ভাটা চললেও বিকেলের পর জোয়ার আবারো প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছে এসব এলাকার মানুষ। পানি নেমে গেলেও দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। তবে বরিশাল নগরীর মূল সড়কগুলোতে জমে থাকা পানি নেমে গেছে।
স্থনীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে জোয়ার আসলেই ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। নদীরক্ষা বাঁধ উঁচু করলে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তারা।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে বরিশালের মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আজ শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ২০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় উপকূলীয় এলাকার দ্বীপ ও চড় সমূহ ১ থেকে ৩ ফুট অধিক উচ্চতায় বায়ু তারিত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ৩ দিন বরিশালে মাঝারি ধরনের অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এদিকে বরিশাল নদীবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লা রুটের লঞ্চ চলাতে স্বাভাবিক রয়েছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আনিচুর রহমান বলেন, ‘নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং এ জন্য বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল আবহাওয়া অফিস ২৪ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। এইটা আজকে বিকেল নাগাদ বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করছে। কিন্তু এর প্রভাবটা আরও থাকতে পারে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন ফিট বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বৃষ্টিপাত আজকে রাতে এবং আগামীকাল কিছুটা থাকতে পারে।’