বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার না করা হলে জরুরি সব বিভাগে কর্মবিরতিতে যাবেন। তবে এসময় মধ্যম পর্যায়ের চিকিৎসকরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. নাজমুল হুদা জানান, গত রোববার হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. দীলিপ রায়ের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনার বিচার ও কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতেই তাঁরা ধর্মঘট পালন করছেন। বর্তমানে শুধু জরুরি বিভাগ খোলা থাকলেও দাবি আদায় না হলে সব বিভাগে কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় ১৫০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছেন।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরাও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। কলেজের শিক্ষার্থী জুবায়ের মাহমুদ জানান, ‘দাবি মানা না হলে আমরাও ক্লাস বর্জন করব।’
একই দাবিতে আজ সোমবার দুপুরে হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করেন চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। সেখান থেকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. আব্দুল মুনেম সাদ বলেন, ‘জনস্বার্থে ৪৮ ঘণ্টার জন্য সব সেবা চালু থাকবে। তবে এ সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে সর্বত্র কর্মবিরতি ঘোষণা করা হবে। রোগীদের যাতে কষ্ট না হয় সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি, কিন্তু নিরাপদ কর্মপরিবেশ পেতেই হবে।’
গত রোববার হাসপাতালের সামনে এক চিকিৎসক লাঞ্ছিত হন এবং এ সময় আরও দুজন আহত হন। এর প্রতিবাদে আজ হাসপাতালের তৃতীয় তলার কনফারেন্স রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।