সন্তানের লাশ নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে বিচার চাইলেন মা

ঝালকাঠিতে সন্তানের লাশ নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে বিচার চেয়েছেন এক মা। আজ সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব ভাউতিতা সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

মা লিয়া মনি আক্তার তার ১৩ মাসের কন্যা সন্তান জেসমিনের লাশ নিয়ে বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে দাঁড়ান। এসময় জেসমিনের মৃত্যুর জন্য লিয়া মনি তার প্রেমিক ও মেয়ের জন্মদাতা হৃদয় বেপারীকে দায়ী করেন। সন্তানকে হত্যার জন্য হৃদয় বেপারির ফাঁসি চাওয়া হয় মানববন্ধন থেকে। 

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন লিয়া মনি, তার বাবা মো. ফারুক হোসেন মাঝি, মা পলি বেগম, চাচা বেল্লাল মাঝি, ফুপু জোসনা বেগম। 

মানববন্ধনে তারা জানান, ‘২০২১ সালে একই এলাকার হৃদয় বেপারির সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান লিয়া মনি। প্রেমিক হৃদয় বেপারীর সাথে মেলামেশার এক পর্যায়ে গর্ভবতী হন লিয়া মনি। ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী বরিশালের শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক কণ্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। 

এসময় প্রেমিক হৃদয় বেপারী তার মামা রফিক হাওলাদার ও  নানা মান্নান হাওলাদার সেখানে ছিলেন। সেসময় মা ও সন্তানকে হাসপাতাল থেকে বাসা নিয়ে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।

এরপর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কৌশলে নবজাত শিশুকে নিয়ে পালিয়ে যান হৃদয় বেপারি ও তার স্বজনরা। পরে শিশুটিকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা। সেখান থেকে এক ভিক্ষুক শিশুটিকে উদ্ধার করে চাইল্ড হোমে পাঠান এবং সেখানেই বেড়ে ওঠে সে।

এই ঘটনার তিন মাস পরে খবর পেয়ে লিয়া মনির পরিবার ওই শিশুটিকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসার ইচ্ছে প্রকাশ করে। ডিএনএ পরিক্ষাসহ অন্যান্য আইনী প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ৯ মার্চ ওই শিশুকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে আসে লিয়া মনির পরিবার। 

এরপর শিশু জেসমিনকে শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

পরবর্তীতে ধর্ষনের অভিযোগ এনে লিয়া মনি বাদি হয়ে হৃদয় বেপারীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গত ৯ মার্চ ঝালকাঠি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত হৃদয় ব্যাপারী বর্তমানে পলাতক আছে বলে জানা গেছে।  

তবে অভিযুক্ত হৃদয় বেপারীর বাবা আবুল বেপারী তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, ‘ধর্ষনে অভিযোগে মামলা হয়েছে। আসামী পলাতক রয়েছে, তাকে গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে।’