রাতে নিখোঁজ, সকালে মিলল ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন দেহ

নিহতের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: ইনডিপেনডেন্টবরগুনায় এক মৌসুমি ব্যবসায়ী রাতে নিখোঁজ হওয়ার পর সকালে তার মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে সদর উপজেলার বড় গৌরীচন্না খাল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এখনো তার মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মাথা উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির নাম মো. শামীম ব্যাপারী (৪০)। গৌরীচন্না গ্রামের মোনসের আলী ব্যাপারীর ছেলে তিনি এবং একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের স্বজনেরা জানিয়েছেন, গতকাল রোববার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন শামীম। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে আজ সোমবার সকালে বাড়ির সামনে খালের পাশে রক্তের দাগ এবং তার পায়ের জুতা দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে খালে তল্লাশি চালিয়ে মাথাবিহীন দেহ খুঁজে পান স্বজন ও স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে বরগুনা সদর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছবি: ইনডিপেনডেন্টস্বজনদের দাবি, নিহত শামীমের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনার আসামিদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্ত্রী।

নিহতের বাবা মোনসের আলী ব্যাপারী বলেন, ‘আমার নিরীহ ছেলেকে যারা খুন করেছে, তাদের শাস্তি যেন আল্লাহ আমাকে চোখের সামনে দেখান।’

শামীমের মেয়ে জানিয়েছেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় বাসার কাজ শেষ করে বাজারে গিয়েছিলেন বাবা। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। রাত গভীর হলে মা আমাদের জানান, বাবা এখনো বাসায় ফেরেননি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিয়ে খোঁজ নিই, কিন্তু বাবার কোনো সন্ধান পাইনি। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কোথাও গেছেন, ফিরে আসবেন। কিন্তু বাবা বাসায় না ফেরায় সকালে তাকে খুঁজতে গিয়ে গৌরীচন্না খালের পাড়ে রক্তের দাগ পাই। আরও একটু সামনে গিয়ে একটি জুতা দেখতে পাই। এরপর আরও সামনে গিয়ে আরেকটি জুতা দেখতে পাই। পানির কাছাকাছি যেতেই কচুরিপানার মধ্যে বাবার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই। কে বা কারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে আমরা জানি না। তবে আমরা অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খালে মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই। মরদেহের পেট কাটা ছিল। পরে মাথা খোঁজার জন্য ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। তারা এসে দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুসন্ধান চালিয়েও মাথার সন্ধান পায়নি। মাথা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’