মেয়াদ বাড়িয়েও হয়নি সড়ক সংস্কার, দুর্ভোগে পানছড়ির লক্ষাধিক মানুষ

দরপত্র অনুযায়ী কাজ পাওয়ার সাত মাসেও খাগড়াছড়ি পানছড়ি সড়কের সংস্কার কাজ শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও ঠিকাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফের কাজের মেয়াদ বাড়িয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। ঠিকাদারের গাফিলতিতে গুরত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছে তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন এই সড়কে চলাচল করে হাজার হাজার পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন। সড়কের অসংখ্য ছোটবড় গর্ত মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। বেশিরভাগ অংশ চলাচলের অনুপযোগী। কোথাও কোথাও সড়কের চিহ্নও নেই। পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।

পিকআপচালক মোহাম্মদ গিয়াস বলেন, ‘সড়কটিতে এখন চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। পুরো ২৫ কিলোমিটার রাস্তা একেবারেই শেষ। মোটরসাইকেলও চালানোর মতো ব্যবস্থা নেই। একটা অসুস্থ রোগী নিয়ে গেলে রাস্তায় মারা যাবে।’

সড়ক নিয়মিত চলাচলকারী মোটরসাইকেল চালক ফারুক হোসেন বলেন, ‘এই সড়কটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। পুরো সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী। রাস্তা সংস্কারে টেন্ডার হয়েছি শুনেছি। কিন্তু এখনও কাজ শেষ হয়নি। রাস্তার কারণে অনেক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।’

খাগড়াছড়ি-পানছড়ি ২৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২০২৩ সালে জুলাই মাসে দরপত্র আহ্বান করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এবাইদ মনসুর কন্সট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেলেও তা বাস্তবায়ন করছে এমদাদ পাটোয়ারি নামে এক ব্যক্তি।

এমদাদ পাটোয়ারি বলেন, ‘এতদিন আমরা বেইজ প্ল্যান্ট বসাতে পারেনি। তাই নির্ধারিত সময়ে কাজ করতে পারিনি। আশাকরি বর্ধিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব।’

খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়ক সংস্কারে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে ডিসেম্বরে কাজের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তা বাড়িয়ে চলতি বছরের ২০ মার্চ পর্যন্ত করা হয়।

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাকসুদুর রহমান বলেন, বর্ষার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। ঠিকাদারের আবেদনে কাজের সময় চলতি বছরের ২০ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরের দিকে কিছু কাজ হয়েছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করে তাহলে দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।