বঙ্গবন্ধু টানেলে যেসব কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে তৈরি বঙ্গবন্ধু টানেল গত ২৮ অক্টোবর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের দুদিন পরই টানেলে দুর্ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত ৭টি দুর্ঘটনায় দুজন নিহত ও আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন।

বারবার দুর্ঘটনা ও উদ্ধার জটিলতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাড়ির বেপরোয়া গতি ও টানেলে চলাচলে দক্ষতার অভাবে দুর্ঘটনা বেশি হচ্ছে। এদিকে শুরু থেকে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও তদারকি না থাকার অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল টানেলে ঢোকার রাস্তাটি বেশ ঢালু এবং বের হওয়ার পথ কিছুটা উঁচু। এজন্য গতি নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হয় চালকদের। এ ছাড়া টানেলের সড়ক প্রশস্ত ও মসৃণ হওয়ায় গতি নিয়েও সতর্ক থাকেন না কেউ। এসব কারণেই ঘটছে দুর্ঘটনা।

স্থপতি আশিক ইমরান বলেন, টানেলে সর্বোচ্চ গতিসীমা ৬০ কিলোমিটার দেওয়া আছে। কিন্তু নজরদারি না থাকার কারণে এটা কেউ মানছে না। নজরদারি না থাকার কারণে যারা মানছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া যাচ্ছে না। এসব কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে।

টানেলে দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রম নিয়েও জটিলতা রয়েছে। কারণ, অনেক নিয়মকানুন মেনে অভিযানে যেতে হয় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে। 

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (বন্দর) শাকিলা সুলতানা বলেন, আমাদের যতগুলো গাড়ি যায়, সবগুলো গাড়ির টোল দিতে হয়। এজন্য আমাদের কতগুলো গাড়ির সংখ্যা উল্লেখ করে সেতু বিভাগকে জানিয়েছি যেন আমাদের বেশ কিছু গাড়ি টোলমুক্ত করা হয়। যাতে আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারি।

যানবাহন নজরদারিতে টানেলে ১১০টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু এতে গাড়ির গতি বোঝা যায় না। এ পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা রোধে আরও নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু টানেলের সহকারী প্রকৌশলী তানভীর রিফা বলেন, টানেলের ভেতরে এবং বাইরে স্পিড ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।