মুক্তির খবরে নোয়াখালীর ২ নাবিকের বাড়িতে স্বস্তি

সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিকের মুক্তির খবরে স্বস্তি প্রকাশ ফিরেছে নোয়াখালীর আনোয়ারুল হক রাজু ও আহমেদ মোহাম্মদ সালেহর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। এখন প্রিয় মানুষটিকে দেখার অপেক্ষা রয়েছেন তাঁরা।

এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের নাবিক মো. আনোয়ারুল হক রাজুর বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর গ্রামে। ভোর রাতে ২৩ নাবিকের মুক্তির খবর পান রাজুর পরিবারের সদস্যরা। রাজু জিম্মিদশা থেকে মুক্ত পেয়েছে এ খবর পাওয়ার পর থেকে তাঁর বাবা, মা, বড় ভাই সবাই তাঁকে দেখার অপেক্ষায় আছেন।

রোববার সরেজমিনে কথা হয় নাবিক মো. আনোয়ারুল হক রাজুর বাবা আজিজুল হক মাস্টারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘জিম্মি করা জাহাজ মুক্তির খবর পেয়েছি। গত এক মাস যাবত যে হতাশা আর চিন্তার মধ্যে ছিলাম, মুক্তির খবরে সেগুলা কেটে গেছে। আমরা এখন স্বস্তিতে আছি।’ 

রাজুর মা দৌলত আরা বেগম বলেন, ‘গত এক মাস আমার ছেলে জলদস্যুদের হাতে জিম্মি ছিল। ছেলের চিন্তায় আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। কাল আমার ছেলে ১২টার দিকে কল করে জানায় তাদের মুক্ত করা হয়েছে। এ খবর পেয়ে আমাদের সব চিন্তা শেষ হয়েছে।’

ছেলের মুক্তির খবরে স্বস্তিতে নাবিক রাজুর বাবা–মা। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনএদিকে নাবিক আহমদ মোহাম্মদ সালেহের অপেক্ষায় চাটখিল উপজেলার সিংবাহুড়া গ্রামের বাড়িতে আছেন স্ত্রী ও মেয়েরা। জানতে চাইলে স্ত্রী তানিয়া আক্তার বলেন, ‘পরিবারে প্রধান কর্মক্ষম ব্যক্তি এক মাস থেকে জিম্মি ছিল। এ অবস্থায় আমরা খুবই চিন্তার মধ্যে ছিলাম। তার মুক্ত পাওয়ার খবর আমাদের স্বস্তি দিয়েছে। এখন আমরা শুধু তাঁর বাড়িতে আসার অপেক্ষায় আছি।’ 

প্রসঙ্গত, গত ১২ মার্চ কয়লাবোঝাই এমভি আবদুল্লাহ ছিনতাই করে সোমালি জলদস্যুরা। এ সময় জাহাজটিতে থাকা ২৩ বাংলাদেশি নাবিককে জিম্মি করে তারা। নাবিকদের উদ্ধারে নানা চেষ্টা করা হয়। চলে কূটনৈতিক তৎপরতা। কিন্তু অগ্রগতি আসতে সময় লাগছিল। ঘটনার পরপরই জাহাজটি উদ্ধারে যায় ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ।

এমনকি জাহাজটির জিম্মি নাবিকদের ঈদও কাটে বন্দী দশায়। তবে তাঁদের ঈদের দিন ভালো খাবার দেওয়া হয় বলে খবর পাওয়া গিয়েছিল। অবশেষে বাংলা নববর্ষের দিন সুখবর এল। নিশ্চিতভাবে এটি নতুন বছর বরণের আনন্দে বাড়তি মাত্রা যোগ করবে।

সংশ্লিষ্ট খবর: