কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ট্রেজারার ও প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাঁদের কার্যালয়ে তালা দিয়েছে শিক্ষক সমিতি। শিক্ষক সমিতির নেতারা আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব কার্যালয় তালাবদ্ধ করে দেন।
শিক্ষক সমিতির নেতারা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শিক্ষকদের ৭ দফা দাবি না মানায় উপাচার্য, ট্রেজারার এবং প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাঁদের কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করা হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন দাবি না মানায় গত জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন শিক্ষক তাঁদের প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। সর্বশেষ গতকাল বুধবার সহকারী প্রক্টর থেকে পদত্যাগ করেন সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক কাজী আনিছ।
শিক্ষকদের ৭ দফা দাবিগুলো হলো– উপাচার্যের উপস্থিতিতে শিক্ষকদের ওপর হামলার বিচার, প্রক্টরের অপসারণ, ঢাকার গেস্টহাউস অবমুক্তকরণ, অধ্যাপকদের পদোন্নতি, আইন মোতাবেক বিভাগীয় প্রধান ও ডিন নিয়োগ, শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও স্থায়ীকরণের ক্ষেত্রে আইন বহির্ভূত অবৈধ শর্ত আরোপ নিষ্পত্তিকরণ, ৯০তম সিন্ডিকেট সভায় বিতর্কিত শিক্ষাছুটি নীতিমালা রহিতকরণ, ৮৬তম সিন্ডিকেট সভায় অনুমোদিত স্থায়ীকরণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানান তাঁরা।
দপ্তরে তালা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমরা উপাচার্য স্যারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি সমাধানের জন্য আমাদের সাথে আলোচনায় বসেননি। তাই পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী প্রক্টর, ট্রেজারার ও উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তাঁদের কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তালা থাকবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম আবদুল মঈনক বলেন, ‘শিক্ষক সমিতির এই ধরনের কার্যকলাপ একেবারেই অনৈতিক। আমি বারবার তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি, তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বাদ দিয়ে আলোচনার জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা তাতে সাড়া দেননি।’
বিস্তারিত জানতে ভিডিও দেখুন: