উপজেলা নির্বাচন

কসবায় আইনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ দুই প্রার্থীর ভোটের লড়াই 

আসন্ন দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চেয়ারম্যান পদে দুই প্রার্থীই আইনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ। একজন তাঁর ফুফাত ভাই, আরেকজন সাবেক এপিএস। দুইজনই স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাই দলীয় নেতাকর্মীরাও হয়ে পড়েছেন বিভক্ত। 

দুই প্রার্থীর একজন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুল কাউসার ভূইয়া জীবন। তিনি এক সময় আইনমন্ত্রী এপিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে ভোটের মাঠে তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সামনে এসেছেন ছাইদুর রহমান স্বপন। তিনি আনিছুল হকের ফুফাত ভাই। জীবন লড়ছেন আনারস প্রতীকে আর স্বপনের প্রতীক কাপ-পিরিচ। 

এবার উপজেলা নির্বাচনে কাউকেই মনোনয়ন বা সমর্থন দেয়নি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদেরও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন নির্বাচনকে কোনোভাবেই প্রভাবিত না করেন। 

আনিছুল হক কোনো প্রার্থীর প্রতিই নিজের সমর্থন দেননি। গত ৫ এপ্রিল কসবা মডেল মসজিদে দেওয়া বক্তৃতায় ভোটারদের নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন এবং ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। আপনাদের কেউ বাধা দেবে না। আমি হচ্ছি আপনাদের (জনগণ) পক্ষ। আপনারা যেখানে থাকবেন আমি সেখানেই থাকব।’ 

এ দিনের পর আইনমন্ত্রী নিজ এলাকায় আর যাননি। 

দুই প্রার্থীই আইনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হলেও একে অপরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হুমকি ও প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। 

আইনমন্ত্রীর দুই কর্মচারি বাবু ও সোহাগের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছেন রাশেদুল কাউসার। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। যারাই তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন, তাঁদের তিনি জানাচ্ছেন কারও পক্ষে নন তিনি। তবে রাতের আঁধারে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত দুই স্টাফ সোহাগ ও বাবু মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে লোকজনকে চাপ দিচ্ছে।’

রাশেদুল কাউসারের অভিযোগ, ‘আমার পক্ষে যারা কাজ করছে তাঁদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। এছাড়া সোহাগ বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের স্বপনের পক্ষে কাজ করার জন্য বলছেন। উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকলিল আজম ওপেন ছায়েদুর রহমান স্বপনের নির্বাচন করছেন। তিনি স্বপনের আপন ভগ্নিপতি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে ছায়েদুর রহমান স্বপন বলেন, ‘মন্ত্রী আমার মামাতো ভাই। তবে উনি নিরপেক্ষ। পরিষ্কার করেই সেটা বলে গেছেন। আমরা দুজনেই মন্ত্রীর কাছের লোক। আমি ভাই, আর ও(জীবন) মন্ত্রীর এপিএস ছিল। ফলে প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগ নেই। বরং জীবন মন্ত্রীকে ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা। আমি জনগণে বিশ্বাসী, ভোটের জন্য তাঁদের কাছেই যাচ্ছি।’