রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক, চাঁদপুরের চরাঞ্চলে মিলছে না ধানকাটার শ্রমিক

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষ রাসেলস ভাইপার (চন্দ্রবোড়া) সাপের আতঙ্কে রয়েছেন। একের পর এক রাসেলস ভাইপারের দেখা মেলায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভয়ে চরাঞ্চলের জমির ধান কাটতে চাচ্ছে না শ্রমিকরা।   

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বোরচরে কৃষক সুমন বেপারী তাঁর জমিতে ধান কাটতে গিয়ে রাসেলস ভাইপার সাপের দেখা পান। পরে সবাই মিলে মেরে ফেলে এই বিষধর সাপটিকে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে গফুর বাদশার অলুর জমিতে দেখা মিলেছিল ২টি রাসেলস ভাইপার।

কৃষক সুমন বেপারী বলেন, ‘জমিতে ধান কাটতে গিয়ে দেখি ধানের মুঠির নিচে একটি সাপ শুয়ে আছে। সবাই মিলে সাপটিকে মেরে ফেলি, পরে দেখি এটি একটি বিষধর রাসেলস ভাইপার। এখন ভয়ে কোনো শ্রমিক জমিতে ধান কাটতে চাচ্ছে না।’

বোরচর এলাকার সানাউল্লাহ মাস্টার বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে বোরচর এলাকার রাসেলস ভাইপারের দেখা মিলছে। এতে জমিতে ফসল কাটতে ভয় পাচ্ছে শ্রমিকরা।’ 

উপজেলার এখলাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন,  ‘বোরচর এলাকার  সাপের দেখা মিলছে। কৃষকদের সাবধানে ধান কাটার জন্য বলা হয়েছে।’

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মতলবের চরাঞ্চলে রাসেলস ভাইপার সাপের উপদ্রব অনেক বেড়েছে। এখলাসপুর ইউনিয়নের বোরচর এই সাপের উপদ্রব বেশি। এখন কৃষকরা পায়ে বুট পড়ে ধান কাটবেন। তবে ধানকাটা সকল শ্রমিকদের বুট দেওয়াও অনেকের পক্ষে সম্ভব নয়। আমাদের জানালে ধানকাটা মেশিন দিয়ে সহায়তা করা হবে।’

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘রাসেলস ভাইপার সাপ অত্যন্ত বিষধর। এর দংশনে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যদিও এর প্রতিষেধক রয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া হলে এ থেকে বাঁচা সম্ভব।’