নির্দেশনা ভেঙে স্কুলমাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি

কুমিল্লায় প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বসানো হচ্ছে কোরবানির গরু–ছাগলের হাট। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ভিন্ন নামে গরু বাজারের ইজারা নিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে স্কুলমাঠ। এছাড়া ব্যস্ততম সড়কের পাশ ঘেঁষেও পশুর হাট বসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

আজ বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার চাঁদপুর জনতা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে খুঁটি বসানো হয়েছে কোরবানির পশুর হাট বসানোর জন্য। তার পাশেই স্কুলে তখনও ক্লাস চলছিল। স্কুলের সামনেই শহীদ মিনারের উপরেই বড় সাইনবোর্ডে ঝোলানো আছে— ‘বিশাল গরু–ছাগলের হাট। হাট বসবে আগামী ১৩ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত।’ 

স্কুলের সামনে কথা হয় কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। স্কুলটির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম ও সিহাব জানান, কোরবানির বাজারের পর ঈদের ছুটি শেষ হয়ে গেল মাঠ থেকে দুর্গন্ধ সরে না। পোকামাকড়, মশা–মাছি বেড়ে যায়। এগুলো পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হলেও কোনো লাভ হয় না। 

স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।  

সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবাইয়া খানম বলেন, ‘আমরা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে কোরবানির পশুর হাট ইজারা দেইনি। ওখানে কারা হাট বসাচ্ছে আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

অন্যদিকে, কুমিল্লার সদর উপজেলা আমড়াতলী উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানোর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। স্কুল চলাকালীনই বসানো হচ্ছে গরু–ছাগল বাঁধার খুঁটি। স্কুলের গেইটে রঙিন ব্যানারে ওই বাজারে লেখা দুতিয়ার দিঘীর পাড় কোরবানির হাট। 

স্থানীয়রা জানান, আগামী শুক্রবার থেকে এই স্কুল মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসার কথা রয়েছে। 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমেন শর্মা বলেন, ‘আমরা কোনো স্কুল–কলেজের মাঠে পশুর হাট ইজারা দেইনি। হয়তো ইজারাদাররা হাটের জন্য অন্যস্থান দেখিয়ে স্কুলের মাঠ ব্যবহার করছে। আমি বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্য মতে, স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে কুমিল্লায় মোট কোরবানির পশুর হাট ৪০৯টি। জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, এবার অস্থায়ী হাট ৩৬৪টি। কোরবানির পশুর হাট যেন নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন থাকে সে ব্যাপারে সভা করে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে। 

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান জানান, কোরবানির পশুর হাট থেকে পশু বেচাকেনা সর্বাত্মক নিরাপদ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো মহাসড়কের পাশে কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাঠে কোরবানির হাট ইজারা দেওয়া হয়নি। কেউ যদি প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে অবৈধভাবে হাট বসানোর চেষ্টা করে তাদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।