আজ বুধবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা জজ আদালত ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় এলাকায় চোখে-মুখে লাল কাপড় বেঁধে কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সম্মুখে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের উত্তর পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভের শুরুতে শিক্ষার্থীরা জেলা জজ আদালতের সম্মুখে প্রবেশ করতে চাইলে পুলিশ তাদের বাঁধা দেয় এবং তাদের সরিয়ে সড়কের একপাশে নিয়ে আসে। সেখানে মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান নেন।
এসময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা- ‘আমার খাও, আমার পর, আমাকে গিয়ে গুলি কর’; ‘তোমার কোটা তুমি নাও, আমার ভাইকে ফিরিয়ে দাও’; ‘আমার ভাই মরলো কেন, আমার বোন মরলো কেন, জবাব চাই’; ‘দিয়েছিতো রক্ত আরো দেব রক্ত’; জেগেছেরে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’; ‘কোটা না মেধা, মেধা, মেধা...;’ এসব স্লোগান দিতে থাকেন।
শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করতে পারে সে জন্য তাদের শান্ত রাখতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুদীপ্ত রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইয়াসির আরাফাত, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ মুহসীন আলম ও ডিবি ওসি এনামুল হক চৌধুরী।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে তাদের আন্দোলন করার জন্য বলেছি। তারা যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না করে এবং জনগণের জানমালের ক্ষতি না করা, এসব বিষয়ে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।’
এদিকে গত ১৯ জুলাই চাঁদপুর, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তিতে সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের ৭টি মামলায় এখন পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৩০ জুলাই এদের মধ্যে একজনকে একদিনের রিমান্ড এবং ৫ জনকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদেশ দিয়েছে চাঁদপুরের জ্যেষ্ঠ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।