প্রতিবাদ কর্মসূচিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষক

দেশব্যাপী শিক্ষার্থী হত্যা-নিপীড়ন ও শিক্ষকদের লাঞ্চনার ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে হাতে লেখা ফেস্টুন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনেই মানবন্ধন করে তাঁরা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছয় শিক্ষক হলো- বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার শিলা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম. আনিছুল ইসলাম৷ একই বিভাগের শিক্ষক মাহবুবুল হক ভূঁইয়া, ফার্মাসি বিভাগের শিক্ষক জয় রাজ বংশী ও বাংলা বিভাগের প্রভাষক গোলাম মাহমুদ পাভেল।

তবে মানববন্ধনে অংশ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে আসতে চাইলে অন্য শিক্ষকদের বাধা এবং ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন প্রতিবাদকারী শিক্ষকরা।

মানববন্ধনে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীমা নাসরিন বলেন,  ‘আমি বিচার চাই আমার দেশের সাধারণ জনগণের কাছে। তারা দেখেছে, তারা দেখছেন, দেখবেন এবং অবশ্যই তারা এর বিচার করবেন।’ 

বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার শিলা বলেন, ‘আমার সন্তানও আহত হয়েছে আমি সেই কারনে আসিনি। শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের ওপর যে নিপীড়ন শিক্ষার্থীদের হত্যা এই বিষয়ে সকল শিক্ষকদের মতো আমিও মর্মাহত ছিলাম। আমাদের আরও আগেই নামা উচিত ছিল। আমরা আসলে লজ্জিত।’ 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রবেশে আটকে দেওয়ার ব্যাপারে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল হল ভূঁইয়া বলেন, ‘কর্মসূচিটি সকাল ১১টায় করার কথা থাকলেও আমরা করতে পারিনি। আমাদের অনেক সহকর্মীকে আটকে দেওয়া হয়েছে কোটবাড়ি। তাঁরা শিক্ষক পরিচয় দিয়েও তাদের কর্মস্থলে আসতে পারেননি। প্রক্টরকে জানানো হলেও আসতে দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাঁদের ক্যাম্পাসে আসতে পারবেন না? তাঁরা কারা? তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের ক্যাম্পাসে কেন আসতে পারবেন না? আমরা কোন ব্যবস্থার মধ্যে বাস করছি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাঁদের ক্যাম্পাসে আসতে পারবেন না? আমি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করি, যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার দায়িত্ব জড়িত, আমার কাজ জড়িত, আমার আবেগ জড়িত, আমার শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে। আমরা কেন আসতে পারবো না? ’

এ বিষয়ে কুমিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘একজন শিক্ষক জানিয়েছিলেন যে তিনি আসতে পারছিলেন না। সঙ্গে সঙ্গে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি। প্রক্টরিয়াল বডির দায়িত্ব ক্যাম্পাসের ভেতরে। বাইরে যদি কোনো ঘটনা ঘটে, সেটার জন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হয়। সেটা আমরা করেছি।’

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর ভূইয়া বলেন, ‘সরকার দলীয় লোকেরা শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আসতা বাধা দিচ্ছে– এই ব্যাপারে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। আমি একটু আগে ঘুরে আসলাম এমন কিছু লক্ষ্য করিনি।’