নেত্রকোণায় দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ঘর

নেত্রকোণায় প্রত্যন্ত গ্রামে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী বাড়িতে রাতের আঁধারে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে গরু, ছাগল, কৃষি সেচযন্ত্রসহ ঘরের সব জিনিসপত্র। আগুনের এই ঘটনায় এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে চাপা আতঙ্ক। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছে, আবারও এ ধরনের ঘটনা রোধসহ দুর্বৃত্তদের চিহ্নত করে সামনে আনার কাজ করছে তারা।

নেত্রকোণা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোণা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম সোয়ারীকান্দা। গ্রামটির বাসিন্দা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দীপক কুমার সাহা রায় চৌধুরী। রোববার মধ্যরাতে বাড়ির নাটমন্দির লাগোয়া বড় আকারের গোয়ালঘরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। বাড়ির মানুষ আগুন লাগানোর ঘটনা বুঝতে পেরে ডাক-চিৎকার শুরু করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকার হিন্দু-মুসলমান সবাই মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়।

খবর পেয়ে নেত্রকোণা সদর থেকে সেনা সদস্যসহ দমকল বাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে যায়। সবার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ঘরটিসহ ঘরে থাকা ৯টি গরু ও ৬টি ছাগল, কৃষি সেচযন্ত্রসহ সবই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে অন্তত ১৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি দীপক কুমার সাহা রায় চৌধুরীর।

সোমবার বিকালে দীপক কুমার সাহা রায় চৌধুরী বলেন, ‘রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে ঘর থেকে বের হয়ে চিৎকার শুরু করলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। অন্ধকারের মধ্যে আগুন দিয়েছে। কাউকে চেনা যায়নি। আমার কোনো শত্রু নাই। এরপরেও আগুন দিছে। আমার সর্বনাশ করে ফেলছে। এলাকার মানুষ মুসলমান, হিন্দু সবাই মিলে আগুন নিভাইছে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন, আর্মির লোকজন রাতেই আসছিল। এখনও ধোঁয়া উঠতাছে। আমি হিন্দু হওয়ায় আমার এই সর্বনাশ হইছে। আমি এর বিচার চাই।’

আগুনের এই ঘটনায় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক। এলাকার মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষেরাও এই ঘটনায় মর্মাহত। তারা এই দুর্বৃত্তদের বিচার দাবি করেছে।

গ্রামের বৃদ্ধ মুসলিম ওয়ারেস আলী ফকির বলেন, ‘এরা এলাকার ভালো মানুষ। আমরার মনের মধ্যে অনেক কষ্ট আইছে। আমরা এর জন্যে অনেক দুঃখিত। সকালে শোনার পর থেকে আইছি। এখনও এখানেই আছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

সোমবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নেত্রকোণা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম। তিনি বলেন, ‘আজ সকালে এই আগুনের কথা জানতে পারি। তারপরে এসে যা দেখলাম তাতে পরিস্থিতিটা কোনো দুষ্কৃতিকারীর মাধ্যমে ঘটেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আমরা আশ্বাস দিচ্ছি এই ঘটনার সাথে যে বা যারাই জড়িত থাকুক তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। আমরা সবাই বাঙালি, বাংলাদেশের নাগরিক। এখানে কোনো সংখ্যালঘু নাই। আমরা প্রত্যেকেই ভাই ভাই। অসাম্প্রদায়িক একটি সমাজে আমরা বাঁচতে চাই।’