চট্টগ্রামে পুলিশি হেফাজতে শিক্ষার্থীকে মারধরে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামে পুলিশি হেফাজতে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে সাবেক উপপুলিশ কমিশনার, সহকারী কমিশনার, কোতোয়ালি ও বাকলিয়া থানার ওসিসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্যকেও আসামি করা হয়েছে। 

বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেনের আদালতে এই মামলার আবেদন করেন মারধরের শিকার নাজমুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীর বড় ভাই মো. নজরুল ইসলাম। ভুক্তভোগী নাজমুল হোসেন চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। 

আদালত সিআইডিকে থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে এজাহার দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলায় আসামিরা হলো— সিএমপির দক্ষিণ জোনের সাবেক উপপুলিশ কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, কোতোয়ালি জোনের এসি অতনু চক্রবর্তী, কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসি এস.এম ওবায়েদুল হক, বাকলিয়া থানার সাবেক ওসি আফতাব উদ্দিন, কোতোয়ালি থানার পেট্রোল ইন্সপেক্টর (ট্রাফিক) মো. মিজানুর রহমান, বাকলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুস সালাম, কোতোয়ালি থানার এসআই মো. মেহেদী হাসান, এসআই গৌতম, বাকলিয়া থানার এসআই মো. মিজান, কোতায়ালি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রুবেল মজুমদার, এএসআই রনেশ বড়ুয়া, কোতায়ালি থানার মুন্সী মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. কামাল ও বাকলিয়া থানার কনস্টেবল মো. ইলিয়াছ।  

মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, নগরের বাকরিয়া থানার নতুন বিজ্র এলাকা গত ১৮ জুলাই বন্ধুদের সঙ্গে নাজমুল হোসেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়। পরে পুলিশ ছাত্রদের ওপর অতর্কিতভাবে লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং রাবার বুলেট ছোড়ে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে সুস্থ অবস্থায় নাজমুলকে আটক করে প্রথমে চান্দগাঁও এবং পরে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে মারধর ও জখম করে। এসময় সহকারী কমিশনার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে শিবিরকর্মী বলে স্বীকার করে নিতে জোর করে। একপর্যায়ে নাজমুল জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর তাকে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শারীরিক অবস্থা গুরুতর দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু চমেক হাসপাতালে না নিয়ে তাকে পুনরায় কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। 

ওইদিন বিকেলে গুরুতর আহত অবস্থায় বাকলিয়া থানা–পুলিশ থানায় নিয়ে গিয়ে হাজতে রাখে। নাজমুলের বড় ভাই নজরুল খবর পেয়ে বাকলিয়া থানায় যায়। এ সময় নানা কার্যলাপে মানসিক নির্যাতনে নাজমুল আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। থানা হাজতে রাত ১১টার দিকে নাজমুলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি দেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজমুলকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত কারাগারে পাঠালে সেখানে ১৪ দিন বন্দী থাকার পর জামিনে মুক্তি পান।

মামলার বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট স্বরূপ কান্তি নাথ বলেন, আদালত ভিকটিম নাজমুল হোসেন, মামলার বাদী মো. নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা কেন দেওয়া হবে না, তা ১৪ দিনের মধ্যে জানাতে আসামিদের প্রতি নির্দেশ দেন। একইসাথে তদন্তেরও নির্দেশ দেন।