কাপ্তাই হ্রদে দেশি-বিদেশি ৭৫ প্রজাতির মাছ, বাড়বে রাজস্ব আয়

চলতি মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে পানি বাড়ায় কাপ্তাই হ্রদে মিলছে দেশি-বিদেশি অন্তত ৭৫ প্রজাতির মাছ। এতে লাভের মুখ দেখছেন জেলেরা। সেই সঙ্গে বাড়ছে রাজস্ব আয়ও। মহালছড়িতে মৎস আহরণ আরও বাড়াতে চেঙ্গী নদীর নাব্যতা ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মৎস্য সম্পদের বিশাল উৎস কাপ্তাই হ্রদ। এর বড় অংশ রাঙামাটিতে হলেও একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পড়েছে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে। যেখানে মাছ ধরে জীবিকা চলে প্রায় ছয় হাজার জেলের।

চলতি বছর ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পানি বাড়ায় লেকে মিলছে দেশি-বিদেশি অন্তত ৭৫ প্রজাতির মাছ। সাধারণত বছরের নয় মাস মাছ পাওয়া গেলেও এবার বছরজুড়েই আহরণের আশা করছেন জেলেরা।
 
জেলেরা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে লেকে পানি কম থাকায় সব মাছ একসাথে ধরা পড়েছে। অল্প সময় পরে আর তেমন মাছ পাওয়া যায়নি। এবার পানি বেশি। মাছ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ পাওয়া যাচ্ছে।

কৃত্রিম এই হ্রদে দেশি প্রজাতির ৬৭ ও বিদেশি আট প্রজাতির মাছ রয়েছে। আরও বেশি মাছ আহরণ সম্ভব বলছেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা। সে জন্য চেঙ্গী নদী খনন করে নাব্যতা ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

মহালছড়ি মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি আবুল খায়ের বলেন, ‘আমরা যদি নদীর নাব্যতা ফেরাতে পারি তাহলে এখানে মৎস্য আহরণ আরও বাড়বে। এ জন্য নদী খনন করা প্রয়োজন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি যাতে নদী খনন করা হয়।’

প্রচুর মাছ ধরা পড়ায় এ বছর রাজস্ব আয় আগের বছরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন বিপণন কর্মকর্তারা।

মহালছড়ি কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের উপকেন্দ্র প্রধান মো. নাসরুল্লাহ বলেন, ‘প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় পানির পরিমাণ বেশি এবার বেশি। এতে লেকে মৎস্য আহরণের পরিমাণ বেড়েছে। আশা করা যাচ্ছে, সারা বছরই মৎস্য আহরণ চলবে এবং রাজস্ব আয়ও বাড়বে।’

গত অর্থবছরে মহালছড়ি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে এক কোটি ৪ লাখ টাকা।