আকাশের কালো মেঘ, আরও নিকষ হয় কালো ধোয়ায়। চারপাশে ঘোর অন্ধকারই যেন নেমে আসে। প্রাণ ও প্রকৃতিকে নিয়ে মানুষের যথেচ্ছ ব্যবহার সর্বনাশ করে চলেছে বাংলাদেশের। যার অন্যতম শিকার নদী। নদীমাতৃক বাংলাদেশে বড় বিপদেই আছে নদীগুলো। নদী আর তাঁর প্রাণ-প্রকৃতির দূষণের গল্প নিয়ে চট্টগ্রামের জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন গ্যালারিতে আয়োজন করা হয়েছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী। আজ শুক্রবার দিনব্যাপী এই প্রদর্শনীতে ভিড় করছে নানা বয়সী মানুষ।
দেশের ৯৬ আলোকচিত্রী ক্যামেরার চোখে চোখ রেখে দর্শকেরা দেখেছে দখল, দূষণে বিপন্ন নদী। নদী পাড়ে কলকারখানার বর্জ্যে গলাটিপে ধরা নদীর জীবন। কালো ধোয়ায় আচ্ছন্ন নদীর আকাশ ঢেকে যাওয়া। আবারও কোথাও সুন্দরের প্রসারিত দুহাতে নদী অনন্যরুপে সাজিয়েছে এই বদ্বীপভূমিকে। শীতের সকালে স্নিগ্ধ নদীর জলে কুয়াশার আস্তরণ ভেদ করে জীবিকার জন্য চলমান জীবনও ধরা পড়েছে ক্যামেরায়।
সাত বছরের সন্তান অপরাজিতাকে নিয়ে প্রদর্শনীতে এসেছেন বিমলেন্দু দাশ। তিনি বলেন, নদী সম্পর্কে সন্তানকে জানাতে চাই। নৌকা, জাহাজ ইত্যাদির বাইরেও নদীকে ঘিরে কত কিছু থাকে, সেটাও দেখেছি প্রদর্শনীতে।
শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে চিত্রাঙ্কন শেখার ফাঁকে প্রদর্শনী দেখতে এসেছিল অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোস্তাইন হোসেন। সে জানায়, নদীর ছবি দেখে ভালো লেগেছে। নদী দূষণ দেখে খারাপও লেগেছে। এই পরিস্থিতি থেকে নদীকে বাঁচাতে হবে।
ডেল্টা রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের গবেষক মো. সাকিবুল হক সাকি বলেন, ‘নদীর জীবন ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য এই আয়োজন। প্রান্তিক নদীগুলোকে মানুষের সামনে নিয়ে আসার প্রচেষ্টাও রয়েছে। সাধারণত নদীর ছবি প্রদর্শনীতে পদ্মা, মেঘনার মতো বড় নদীগুলোকেই দেখা যায়। তবে এই প্রদর্শনীতে হরিপুর নদী, যাদুকাটা নদীর মতো আপাত অপরিচিত নদীগুলোকেও দেখানো হয়েছে লেন্সের ভেতরে।’
ইতোমধ্যে এই প্রদর্শনীর দুইটি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে খুলনা ও রাজশাহীতে।