চাঁদপুরে ৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া, হতাশ চাষিরা

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় ৬ থেকে ১২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। ভালো ফলন পেলেও বাজারে নায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ চাষিরা। প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পর হাজারো চাষিরা মিষ্টি কুমড়ার চাষাবাদ করেন। চাষাবাদের খরচের সঙ্গে মিলছে না বিক্রি দামের হিসাব-নিকাশ। স্থানীয় বাজার বা পাইকারি বিক্রি করতে গেলে প্রতি কেজি কুমড়ার আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, হাজীগঞ্জ উপজেলায় গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হলেও বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। বেশিরভাগ হাজীগঞ্জের ডাকাতিয়া নদী এলাকায় পলিমাটি ঘেরা বলাখাল ও শ্রীনারায়ণপুর, অলিপুর গ্রামে চাষ করা হয়েছে মিষ্টি কুমড়া।

চলতি মৌসুমে বলাখাল, শ্রীনারায়ণপুর গ্রাম জুড়ে চাষাবাদ করা হয়েছে হাইব্রিড জাতের কুমড়া। এ কুমড়া এখন বিক্রয় হওয়ার সময়। প্রতি বছর এ সময়ে জমির প্রায় ৬০ ভাগ কুমড়া বিক্রি হয়ে যায়। কিন্তু এ বছর বিক্রয় হয়নি। প্রতি বছর এ সময়ে ঢাকার কারওয়ান বাজার, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর থেকে পাইকার এসে উৎপাদিত কুমড়াগুলো পাইকারি কিনে নিতেন। এ বছর পাইকারদের দেখা নেই। স্থানীয় বাজারে ৬ টাকা থেকে শুরু করে ১২ টাকা কেজি প্রতি বিক্রয় করতে গিয়েও পাচ্ছে না ক্রেতা বেলছেন চাষিরা।

হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম বলেন, এ বছর মিষ্টি কুমড়া আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৬১৮ হেক্টর জমিতে। সরকারি সহায়তা ও কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমেও কৃষকদের মাঝে উচ্চ ফলনশীল মিষ্টি কুমড়ার বীজ বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আধুনিক চাষাবাদের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।