খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে মসজিদে ঢুকে প্রতিপক্ষকে মারধর, আহত ৪

ক্রিকেট খেলা নিয়ে দ্বন্দ্বে কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি মসজিদে ঢুকে প্রতিপক্ষকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে মসজিদেও। হামলা ঠেকাতে গিয়ে আহত হয়েছেন অন্তত চারজন।

শুক্রবার দিবাগত রাতে দেবিদ্বারের ফতেহাবাদ দক্ষিণ পাড়া বায়তুল আকসা জামে মসজিদে শবে এ বরাতের নামাজ চলার সময় এই ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম ও কামরুল নামের এক যুবক। বাকি দুজনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, ক্রিকেট খেলা নিয়ে আগের একটি দ্বন্দ্বে শুক্রবার বিকেলে নয়াকান্দি গ্রামের মাসুদ-জাহিদ গ্রুপের সঙ্গে ফতেহাবাদ গ্রামের কামরুল গ্রুপের মারামারি হয়। এর জেরেই রাতে নয়াকান্দি গ্রামের ছেলেরা ফতেহাবাদের ছেলেদের ধাওয়া করে। এতে কয়েকজন ফতেহাবাদ দক্ষিণ পাড়া বায়তুল আকসা জামে মসজিদে আশ্রয় নিলে অপরপক্ষ মসজিদে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুর করে। 

এই ঘটনায় চারজন আহত হয়েছে বলেও জানান শাহিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুল আউয়াল বলেন, ‘শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ১০ থেকে ১২ জন চিৎকার করে হঠাৎ মসজিদে ঢুকে। এ সময় একপক্ষ মসজিদের দরজা-জানালা বন্ধ করতে চাইলে অপরপক্ষ জোর করে ঢুকে মারামারি শুরু করে। তাদের প্রত্যেকের হাতে রড, হকিস্টিক ও পাইপ ছিল। এই সময় মসজিদের মুসল্লিরা বাধা দিতে চাইলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করা হয়।’

মাওলানা আবদুল আউয়াল আরও বলেন, হামলা ঠেকাতে মসজিদের মাইক দিয়ে ঘোষণা দেওয়া হয় ডাকাত এসেছে। এরপর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা কাউসার আহমেদ বলেন, ‘আগের কী ঝামেলা, এটা আমরা জানি না। কিন্তু এভাবে নামাজের সময় এসে মসজিদে ঢুকে মারধর করা ঠিক হয়নি। আমরা তাদের ঠেকাতে গিয়ে আহত হয়েছি। তারা মসজিদের দরজা-জানালা ভেঙ্গে দিয়ে গেছে।’

পুলিশ কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘ধর্মীয় কিংবা মসজিদে ভাংচুরের উদ্দেশ্যে হামলা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় কেউ মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’