নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় লঞ্চঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তমরুদ্দি লঞ্চঘাটে এ সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে লায়লা বেগম, কামরুল ইসলাম, আকলিমা বেগম ও নাফিসা বেগম নামে চারজনকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে লায়লা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানিয়েছে, হাতিয়ার তমরুদ্দি লঞ্চঘাটের ইজারাদার ছিলেন আওয়ামী লীগের গোলাম মাওলা কাজল। ৫ আগস্টের পর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীরের লোকজন ঘাটের সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। পরবর্তীতে ইজারাদার ও আওয়ামী লীগের গোলাম মাওলা কাজলের সঙ্গে বিএনপি নেতা আলমগীর সমঝোতা করে নেন। সেই থেকে আলমগীর এককভাবে ঘাট নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। কিন্তু তমরুদ্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তানভীর হায়দার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঘাটটি দখল নেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন।
আজ সকাল ৭টার দিকে তানভীরের অনুসারীরা দলবল নিয়ে ঘাট দখলে নিতে যায়। এ সময় আলমগীরের লোকজন তাদের ধাওয়া করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এক পর্যায়ে ঘাটের পাশে থাকা শ্রমিকদের পরিবারের নারীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাড়িঘর ও দোকানপাটে ব্যাপক হামলা ভাঙচুর চালানো হয়।
এ বিষয় বিএনপি নেতা আলমগীর বলেন, ‘প্রতিদিন ঘাট থেকে আয়ের ৪০ ভাগ টাকা ইজারাদার গোলাম মাওলা কাজল নিয়ে যান। আমি শুধু শ্রমিকদের দেখভাল করি।’
প্রতিপক্ষ তানভীর হায়দার বলেন, ‘আলমগীরকে নানা অপকর্মের জন্য বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে সমঝোতা করে ঘাট ভোগ দখল করে আসছেন।’
এ ব্যাপারে হাতিয়া থানা পরিদর্শক (তদন্ত) খোরশেদ আলম বলেন, ‘তমরদ্দি ঘাট নিয়ে তানভীর ও আলমগীরের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’