ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে নেই দেশের কোনো মোবাইল ফোন কোম্পানির নেটওয়ার্ক। এ কারণে বন্দরের বিভিন্ন অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা কাজে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
শুধু আখাউড়া স্থলবন্দরই নয় জেলার সীমান্তবর্তী কসবা, আখাউড়া এবং বিজয়নগর উপজেলার মোট ৭৩ কিলোমিটার অংশে নেটওয়ার্ক না থাকায় ভারতীয় মোবাইল সিম ব্যবহার হচ্ছে। উত্তর-পূর্বভারতের সঙ্গে স্থলপথে বাংলাদেশের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম আখাউড়া স্থলবন্দর।
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরে নেই দেশের কোনো মোবাইল ফোন কোম্পানির নেটওয়ার্ক। এ কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় নানা কাজে। স্থলবন্দর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরত্বে গাজীরবাজারে দেশের কয়েকটি মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার রয়েছে। কিন্তু স্থলবন্দর এলাকায় নেই সেই নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি।
নেটওয়ার্কের সমস্যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আরমান মিয়া বলেন, ‘নেটওয়ার্কের অনেক সমস্যা। বাড়ি থেকে দূরে কোথাও গেলে বাড়িতে কথা বলতে পারি না। আবার বিদেশে যে আত্মীয়-স্বজন আছে তারাও নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে দেশে কথা বলতে পারেন না। বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অফিসের কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে মোবাইল নেটওয়ার্কের অভাবে।’
আখাউড়া স্থলবন্দর মৎস্য রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক মিয়া বলেন, ‘নেটওয়ার্ক না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক ক্ষতি হয়। প্রায় সময় কাস্টমসে ব্রড ব্র্যান্ডের লাইন থাকে না। এতে অনেক ভোগান্তি হয়।’
মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে সমস্যার কথা স্বীকার করেন কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা।
আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের সাব-ইন্সপেক্টর সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘ইমিগ্রেশন সিস্টেম সরকারিভাবে চলে। কিন্তু মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে কথা বলা সম্ভব হয় না। প্রয়োজনে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। যাত্রীরাও কথা বলতে পারে না।’
আখাউড়া স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ কল আসে, কিন্তু বুঝতে পারি না। রিসিভ করতে পারি না। যে কারণে অনেক সময় অনেকে বলে আপনাদের মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন নাকি। এটা এখানকার নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।’
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে দেশীয় একটি কোম্পানি তাদের টাওয়ার স্থাপনে আগ্রহী হয়। এ ব্যাপারে বিভিন্ন সংস্থার ছাড়পত্রও চাওয়া হয়।
স্থানীয়রা আরও জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী তিন উপজেলা কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলার গ্রামগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে ভারতীয় বিভিন্ন কোম্পানির মোবাইল সিমকার্ড। চোরাচালানসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও এসব সিম ব্যবহার হচ্ছে। মোবাইলভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা না পেয়ে তরুণরা ভারতীয় মোবাইল ফোনের সিমকার্ড ব্যবহার করছে।