ফেনীর কয়েকটি উপজেলায় পানির জন্য হাহাকার 

পানিশূন্য হয়ে পড়েছে ফেনীর বেশকটি উপজেলা। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনপ্রচণ্ড দাবদাহ আর অনাবৃষ্টির কারণে পানিশূন্য হয়ে পড়েছে ফেনীর বেশকটি উপজেলা। এসব উপজেলার নলকূপ, পুকুর-খাল, বিলসহ কোথাও নেই পর্যাপ্ত পানি। প্রচণ্ড খরতাপে চারিদিকে যেন ধু-ধু মরুভূমি। ফলে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয়রা। জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, টানা কয়েক মাস অনাবৃষ্টির ফলে এই অবস্থা হয়েছে।

জেলার ফুলগাজী উপজেলার জি এম হাট ইউনিয়নের কুলসুম আক্তার শরিফা বলেন, ‘আমাদের শরিফপুর গ্রামের এই কাজী বাড়িতে ১১টি পরিবারের মধ্যে পাঁচটি পরিবারের মধ্যে রয়েছে গভীর নলকূপ। এসব নলকূপের একটিতেও মিলছে না সুপেয় পানি। তাই খাবার পানি ও রান্নাবান্নার পানি সংগ্রহে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় আমাদের। দূর দূরান্তের জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করে সেগুলো রান্না-বান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করি। শুধু এই বাড়ি নয় আশপাশের অধিকাংশ বাড়ির নলকূপে মিলছে না সুপেয় পানি। যার ফলে সুপেয় পানি, রান্না-বান্না ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের পানি নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।’

নলকূপেও মিলছে না সুপেয় পানি। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনজি এম হাট ইউনিয়নের বসিকপুরের বাসিন্দা আনিস জানান, এই জিএমহাট ইউনিয়নের শ্রী চন্দ্র পুর গ্রামের ৩৫টি গভীর নলকূপের একটিতেও সুপেয় পানি পাওয়া যাচ্ছে। তাই খাবার পানি ও রান্নাবান্নার পানি সংগ্রহে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। দূর দূরান্তের জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করে সেগুলো রান্না-বান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেন তারা। শুধু এই গ্রাম নয় এই ইউনিয়নের প্রায় সব ওয়ার্ডের বাড়ির নলকূপে মিলছে না সুপেয় পানি।

খোকন চন্দ্র পাটোয়ারী নামের এক বাসিন্দা জানান, জিএমহাট ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরের গভীর নলকূপটি তিন বছর যাবৎ নষ্ট, অকেজো। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার যদি বিকল্প ব্যবস্থা করে সমস্যার সমাধান করে তবে জনগণ উপকৃত হবে।

একই চিত্র দেখা দিয়েছে পরশুরাম, ছাগলনাইয়াসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন বাড়ি। ফলে পানি জোগাড়ে দূর দূরান্তে ছুটছেন গ্রামবাসী। এতে অনেকে পুকুর অথবা ডোবার অস্বাস্থ্যকর পানি পান করে ডায়রিয়াসহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন। এ ছাড়া জেলার দাগনভুঞা উপজেলার নলকূপের পানিতে লবণাক্তের জন্য পান করা যাচ্ছে না পানি। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে বিকল্প ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দূর দূরান্তের জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করে সেগুলো রান্না-বান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন পাঠান নগর এলাকার কৃষক করিমুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব জমিগুলোতে এবার স্কিমধানের চাষ করেছি। কিন্তু পানির অভাবে ধানের থোড় এখন ভুসি হয়ে যাচ্ছে। পুকুর, জলাশয়ের ও খালের পানি শেষ হওয়ায় সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিএডিসি কৃষি জমিতে পানি দেওয়ার কথা থাকলেও এখন দিতে পারছে না। তাই আমরা বিপাকে আছি। পুকুর, খাল ও জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় পানির অভাবে ফসল উৎপাদনে চরম সংকটে পড়েছি।’

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিউল হক বলেন, অনাবৃষ্টির পাশাপাশি গরমের তীব্রতা বাড়ায় ভূগর্ভের স্তর নেমে গেছে। ফলে গভীর নলকূপেও পাওয়া যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় পানি। জেলার ৬ উপজেলায় ১৮ লাখ বাসিন্দাদের মধ্যে আছে ২ লাখ নলকূপ। এর মধ্য সরকারিভাবে বসানো হয়েছে ৩৪ হাজার সাধারণ ও গভীর নলকূপ। দুই লাখের মধ্যে প্রায় দেড়লাখ নলকূপের এমন সমস্যা রয়েছে।’