জেলার ফুলগাজী উপজেলার জি এম হাট ইউনিয়নের কুলসুম আক্তার শরিফা বলেন, ‘আমাদের শরিফপুর গ্রামের এই কাজী বাড়িতে ১১টি পরিবারের মধ্যে পাঁচটি পরিবারের মধ্যে রয়েছে গভীর নলকূপ। এসব নলকূপের একটিতেও মিলছে না সুপেয় পানি। তাই খাবার পানি ও রান্নাবান্নার পানি সংগ্রহে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় আমাদের। দূর দূরান্তের জলাশয় থেকে পানি সংগ্রহ করে সেগুলো রান্না-বান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করি। শুধু এই বাড়ি নয় আশপাশের অধিকাংশ বাড়ির নলকূপে মিলছে না সুপেয় পানি। যার ফলে সুপেয় পানি, রান্না-বান্না ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারের পানি নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।’
খোকন চন্দ্র পাটোয়ারী নামের এক বাসিন্দা জানান, জিএমহাট ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরের গভীর নলকূপটি তিন বছর যাবৎ নষ্ট, অকেজো। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার যদি বিকল্প ব্যবস্থা করে সমস্যার সমাধান করে তবে জনগণ উপকৃত হবে।
একই চিত্র দেখা দিয়েছে পরশুরাম, ছাগলনাইয়াসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন বাড়ি। ফলে পানি জোগাড়ে দূর দূরান্তে ছুটছেন গ্রামবাসী। এতে অনেকে পুকুর অথবা ডোবার অস্বাস্থ্যকর পানি পান করে ডায়রিয়াসহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন। এ ছাড়া জেলার দাগনভুঞা উপজেলার নলকূপের পানিতে লবণাক্তের জন্য পান করা যাচ্ছে না পানি। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে বিকল্প ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিউল হক বলেন, অনাবৃষ্টির পাশাপাশি গরমের তীব্রতা বাড়ায় ভূগর্ভের স্তর নেমে গেছে। ফলে গভীর নলকূপেও পাওয়া যাচ্ছে না প্রয়োজনীয় পানি। জেলার ৬ উপজেলায় ১৮ লাখ বাসিন্দাদের মধ্যে আছে ২ লাখ নলকূপ। এর মধ্য সরকারিভাবে বসানো হয়েছে ৩৪ হাজার সাধারণ ও গভীর নলকূপ। দুই লাখের মধ্যে প্রায় দেড়লাখ নলকূপের এমন সমস্যা রয়েছে।’