চলতি মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ার সুফল পাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল খাগড়াছড়ির মহালছড়ির জেলেরা। হ্রদে পানির স্তর ভালো থাকায় পাওয়া যাচ্ছে পর্যাপ্ত মাছ। আগের বছরের তুলনায় বেশি মাছ ধরতে পারায় লাভের মুখ দেখছেন তাঁরা।
মাছ ধরেই জীবন চলে খাগড়াছড়ির মহালছড়ির প্রায় ছয় হাজার জেলের। বছরের নয় মাস কাপ্তাই হ্রদ থেকে মাছ ধরেন তাঁরা। চলতি বছর ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পর্যাপ্ত পানি আছে হ্রদে। এতে বেড়েছে মাছের উৎপাদন। ২ আগস্ট থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা শুরু হওয়ার পর ভালো মাছ পাচ্ছেন জেলেরা।
জেলেরা বলছেন, বিগত বছরে লেকে পানি কম থাকায় সব মাছ একসঙ্গে ধরা পড়েছে। অল্প সময় পরে তেমন মাছ আর পাওয়া যায়নি। এবার পানি বেশি বলে মাছ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
সব সময় মাছের এমন উৎপাদন এবং পানির স্তর ঠিক রাখতে হ্রদ খননের প্রয়োজন দেখছেন অনেকে।
মহালছড়ি মৎস্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি আবুল খায়ের বলেন, ‘আমরা যদি নদীর নাব্যতা ফেরাতে পারি তাহলে এখানে মৎস আহরণ আরও বাড়বে। এ জন্য নদী খনন করা প্রয়োজন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি যাতে নদী খনন করা হয়।’
এবার হ্রদে মাছ উৎপাদন বেশি হওয়ায় রাজস্ব আয় বাড়বে বলে আশা করছে মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্র।
মহালছড়ি কাপ্তাই হ্রদ মৎস উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের উপকেন্দ্র প্রধান মো.নাসরুল্লাহ বলেন, ‘প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় পানির পরিমাণ বেশি। এতে লেকে মৎস্য আহরণের পরিমাণ বেড়েছে। আশা করা যাচ্ছে সারা বছরই মৎস আহরণ চলবে এবং রাজস্ব আয়ও বাড়বে। গত অর্থবছরে ৫৬৫ মেট্রিক টন মাছ আহরণে মহালছড়ি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে রাজস্ব আদায় হয় এক কোটি ২০ লাখ টাকা।’