এনজিও অফিসে ঋণ নিতে গিয়ে অপমানিত হয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) অফিসে ঋণ নিতে গিয়ে অপমানিত হয়ে বিষপানে এক ব্যক্তির আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। শঙ্কর সাহা (৪০) নামে ওই ব্যক্তি হাতিয়ার চরইশ্বর ইউনিয়ন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সচিন্দ্র সাহার ছেলে।

মঙ্গলবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদরে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। 

এর আগে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় হীড বাংলাদেশের হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালী অফিস থেকে শঙ্কর সাহাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ওছখালী বাজার বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান জানান, শঙ্কর সাহা পেশায় একজন মোয়া ও চা বিক্রেতা। এক বছর আগে হীড বাংলাদেশ থেকে তিনি দুই লাখ টাকা ঋণ নেন। প্রায় সব কিস্তি দেওয়ার পর সংস্থার লোকজন পুরোনো ঋণ পরিশোধ করলে তাকে নতুন করে ঋণ দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। এরপর ধার করে আগের ঋণ পরিশোধ করে নতুন ঋণের বিষয়ে কথা বলতে সোমবার সন্ধ্যায় হীড বাংলাদেশের অফিসে যান শঙ্কর সাহা। এসময় আগের ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করতে না পারায় তিরস্কার করে তাকে নতুন করে ঋণ দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর ম্যানেজারের কক্ষে বাথরুমে ঢুকে বিষ পান করেন শঙ্কর সাহা। পরে সংস্থার লোকজন বাথরুমের দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত চিকিৎসক আরিফ হোসেন বলেন, ‘রোগীর শরীরে বিষক্রিয়া থাকায় ওয়াশ করা হয়। এর অল্পক্ষণের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।’

শঙ্কর সাহার ছেলে হৃদ্র সাহা বলেন, ‘হীড বাংলাদেশের লোকজন আমার বাবাকে ঋণ দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে তাদের অফিসে ডেকে নিয়ে অপমান করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।’

হীড বাংলাদেশের হাতিয়া শাখা ব্যবস্থাপক কাওসার আহমেদ বলেন, ‘শঙ্কর সাহা পূর্বের ঋণ পরিশোধ করেছেন। গতকাল নতুন ঋণের জন্য এলে তাকে বলা হয়েছে যে, তার আগের কিস্তি পরিশোধ অনিয়মিত ছিল। এরপর ম্যানাজারের কক্ষে বাথরুমে ঢুকে বিষ পান করেন তিনি। পরে হাসপাতালে নিলে তার মৃত্যু হয়।’ 

এ ব্যাপারে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা বলেন, ‘খবর পাওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। আজ সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’