ফেনীর ফুলগাজীতে বন্ধুর প্রবাস গমন উপলক্ষ্যে আয়োজিত পার্টিতে যোগ দিতে গিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ সন্দেহে ৩৯ কিশোরকে আটক করা হয়। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার মুন্সীরহাটের উত্তর আনন্দপুর ইব্রাহিম কনভেনশন হলে এ ঘটনা ঘটে। রাতভর জেরা ও যাচাই-বাছাই শেষে ভোরে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনন্দপুরের বরকতউল্লাহ সমাজের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী শাহজালালের ছেলে সাইমুন শাহ পাটোয়ারী আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিদায়ের আগে তিনি বন্ধুদের নিয়ে মুন্সীরহাটস্থ উত্তর আনন্দপুর ইব্রাহিম কনভেনশন হলে খাওয়া ও আড্ডার আয়োজন করেন। বুধবার রাতে অনুষ্ঠান চলাকালীন ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল মজুমদার গোলাপের নেতৃত্বে কিছু লোকজন ওই কিশোরদের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
এ সময় ফেনী সদর, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ১২ থেকে ২২ বছর বয়সী ৩৯ জন কিশোর সেখানে উপস্থিত ছিলেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে দীর্ঘ সময় জেরা ও যাচাই-বাছাই শেষে ভোরবেলায় অভিভাবকদের জিম্মায় কিশোরদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন- ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা ও ফুলগাজী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখরুল আলম স্বপন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক গোলাম রসুল মজুমদার গোলাপ, আনন্দপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ এসহাক, আনন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিন্টু ও বিএনপি নেতা সাবলু।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কিশোরের অভিভাবক বলেন, ‘বন্ধুর প্রবাস গমন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমার ছেলে সেখানে যায়। রাতে আকস্মিক তাকে আটকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে অবাক হয়েছি। তারা কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। তবুও ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল গোলাপের নেতৃত্বে কিছু লোকজন বাড়াবাড়ি করে আমাদের সন্তানদের ছাত্রলীগ সাজিয়ে আটক করে হয়রানি করেছে।’
অভিযোগের বিষয়ে ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল মজুমদার গোলাপ বলেন, ‘তাদের মধ্যে একজন ছেলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। সরকার পতনের পর সে এতদিন ফেনী শহরে থাকলেও এখন প্রবাসে চলে যাবে বলে এলাকায় এসে বন্ধুবান্ধব নিয়ে পার্টির আয়োজন করেছিল। আমি তাদের আটকের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রশাসনকে অবহিত করেছি। সেখানে আমার সম্পৃক্ততা বা টাকা দাবির মতো কোনো অভিযোগ সত্য নয়।’
এ বিষয়ে ফুলগাজী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যায়। আটক কিশোরদের কারো নামে থানায় কোনো অভিযোগ নেই। তারা অনেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেও যুক্ত ছিল। যাচাই করে দেখা গেছে, অধিকাংশ কিশোরদের পরিবার স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সমর্থক। যাচাই-বাছাই শেষে ভোর সোয়া ৪টার দিকে অভিভাবকের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’