ধর্মীয় কটুক্তির অভিযোগ 

কুমিল্লায় মাজারে ভাঙচুর–আগুন 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মহানবী (সা.)–কে নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে কুমিল্লার হোমনায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তারকৃত যুবকের বাড়িঘর ও পাশের একটি মাজারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধরা। বৃহস্পতিবার সকালের এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

অভিযুক্ত যুবক মহসিন (৩৫) হোমনা উপজেলার ফকির বাড়ির আলেক শাহর ছেলে। আজ দুপুরে আগুন ও ভাঙচুরের শিকার একটি মাজারের স্থাপনা ও তিনটি ঘর পরিদর্শন করেন কুমিল্লা পুলিশ সুপার।

এসময় পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। তারপরও যারা এই ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে- এটা অন্যায়। এ ঘটনায় কারও ইন্ধন আছে কি না– খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছড়া কারা ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে তা তদন্ত করে বের করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহসিন নামে অভিযুক্ত এক যুবক ‘বেমজা মহসিন’ নামক আইডিতে বুধবার সকাল ১০ টা ৫২ মিনিটে নবী (স.) নিয়ে কটুক্তি করে পোস্ট দেন। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা বিক্ষোভ করলে পুলিশ অভিযুক্ত মহসিনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ওই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা হোমনা উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই যুবকের বিরুদ্ধে হোমনা থানায় একটি মামলা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এদিকে ফেসবুকে আপত্তিকর ওই পোস্টকে কেন্দ্র বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলাকার বিক্ষুব্ধ লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে আসাদপুর গ্রামে মহসিনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। এসময় পাশের কফিল উদ্দিন শাহের মাজারের স্থপনায়ও ভাঙচুর চালায়। দেওয়া হয় আগুন। ভাঙচুর হয়েছে মাজারের পাশের আরও তিনটি কবরে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. নাজির আহমেদ খান ও হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষ্যেমালিকা চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্ষেমালিকা চাকমা এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বুধবার ধর্ম নিয়ে কটূক্তির কারণে জনতার মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিক্ষুব্ধ জনতা মাজারে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে।’

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মূলত ধর্ম নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে জনতার দাবির প্রেক্ষিতে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতের সোপর্দ করা হয়। তবুও সকালে বিক্ষুব্ধ লোকজন মাজারে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।’