ভূমিকম্পের বড় ঝুঁকিতে বন্দরনগরী, হুমকিতে ৭৫ শতাংশ ভবন-টানেল

চট্টগ্রামের কাছেই বেশ কয়েকটি সক্রিয় ফল্টলাইনের কারণে ভূমিকম্পের বড় ঝুঁকিতে বন্দরনগরী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ফল্ট লাইনে সাত মাত্রার ভূকম্পনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মহানগরীর ৭৫ শতাংশ ভবন। এ ছাড়া ক্ষতির মুখে পড়তে পারে কর্ণফুলী টানেলের মতো বিশাল অবকাঠামোও। তাই স্থাপনা নির্মাণে নিয়ম মানা ও নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

ভূ-তত্ত্ববিদেরা বলছেন, মূলত ইন্ডিয়ান ও বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম। ইন্ডিয়ান প্লেটটি প্রতিবছর পূর্ব দিকে বার্মা প্লেটের নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। বার্মা প্লেট অগ্রসর হচ্ছে পশ্চিম দিকে। দুই প্লেটের সংযোগস্থলে বিশাল বার্মিজ ফল্টলাইন। এ ছাড়া রয়েছে সিলেট-সীতাকুণ্ড-টেকনাফ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বরকল ফল্টলাইন।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য মো. জাহাঙ্গীর আলম বলছেন, যদি এসব ফল্টলাইনে রিখটার স্কেল ৭.৫ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয় তবে নগরীর মাত্র ২৫ শতাংশ ভবন টিকে থাকবে। ঝুঁকিতে পড়বে সমুদ্র ও বিমান বন্দর, কর্ণফুলী টানেলও।

চুয়েটের স্থাপত্য বিভাগীয় প্রধান ড. মো. রবিউল আলমের ভাষ্যে, ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্ক নয়, সতর্কতায় জোর দিতে হবে। বিল্ডিং কোড মানতে বাধ্য করতে হবে সবাইকে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে মেরামত বা ভেঙে ফেলতে হবে।

চট্টগ্রামে সবশেষ বড় ভূমিকম্প হয় ১৭৬২ সালে। মাত্রা ছিল ৮.৫ থেকে ৮.৮। ১৯৯৭ সালে ২১ নভেম্বর মিজোরামের ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে চট্টগ্রামে একটি ভবন ধসে ২৩ জন নিহত হন।