কুমিল্লায় হামে আক্রান্তদের ৬৬ শতাংশের বয়স ৫ বছরের কম

কুমিল্লায় হামে আক্রান্ত হওয়া ৬৬ শতাংশ রোগীর বয়স ৫ বছরের কম। গত ১২ এপ্রিল পর্যন্ত কুমিল্লায় হামে আক্রান্ত শিশুদের বয়স পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ। গতকাল বুধবার দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে শিশুদের হাম রুবেলার টিকা প্রদান সংক্রান্ত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

সিভিল সার্জন বশির আহমেদ বলেন, পরিসংখ্যানে দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি ৬৬ শতাংশ হামে আক্রান্ত শিশুর বয়স বছরের কম। এর মধ্যে ০ মাস থেকে ৯ মাস বয়সী সবচেয়ে বেশি ৩৩ শতাংশ, ৯ থেকে ১১ মাস ১৭ শতাংশ, ১ থেকে ২ বছর বয়সী ১৬ শতাংশ, ২ থেকে ৪ বছর বয়সী ১৩ শতাংশ। এছাড়াও ৫ বছর থেকে ৯ বছর বয়সী ৯ শতাংশ, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৩ শতাংশ এবং ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৮ শতাংশ শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে।

এদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাম আক্রান্ত রোগীদের হিস্ট্রি অনুসারে ৭৫ শতাংশ রোগী টিকা নেয়নি এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির শিশু বিভাগের প্রধান মিয়া মনজুর আহমেদ। চলতি বছরের শুরু থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত হসপাতালে ভর্তি হওয়া ২২৭ জনের মধ্যে ১৭২ জনই (মিজেলস্ রুবেলা ভ্যাকসিন) এমআর টিকা নেয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। 

শিশু বিভাগের প্রধান মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, ‘আমরা শিশু রোগীদের যে হিস্ট্রি রাখছি তা পর্যালোচনা করে জানা গেছে, এ বছর যে ২২৭ জন আমাদের এখানে ভর্তি হয়েছে এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ টিকার আওতায় আসেনি। এখন যারা টিকা নেবেন তাদেরকে অবশ্যই আক্রান্ত হবার ২৮ দিন পর টিকা নিতে হবে- এই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। এজন্য যে কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।’

আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লায়ও হাম রুবেলার টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হবে জানিয়ে সিভিল সার্জন বশির আহমেদ বলেন, ‘এই ক্যাম্পেইনে লক্ষ্যমাত্রায় ধরা হয়েছে ৭ লাখেরও বেশি শিশু। তবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় এই অঞ্চলের শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়া এবং হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এখানে প্রাণহানি খুবই কম।’

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় বলছে, এ বছরের শুরু থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত কুমিল্লায় হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত শিশু ৬৪৮ জন। হাম সন্দেহে মৃত্যু ৩ জন। হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩২৫ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার সংখ্যা ২৩৫ জন। বেশির ভাগ হাম আক্রান্তই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।