নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় হামলায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে দুই কিশোরসহ তিনজন।
বুধবার রাতে উপজেলার দেবীসিংহপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।
নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৫) বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামের শাহজাহান সাজুর ছেলে। পৌর হাজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। সেনবাগে নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে প্রাণ হারায় সে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেনবাগের নবীপুর এলাকার জয়নাল আবদীনের ছেলে হারুন মিয়াসহ তার সহযোগীরা ফাহিমের নানাবাড়ির উঠান ও চলাচলের পথ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। পাশেই বসানো হতো মাদকের আসর।
স্থানীয়রা আরও জানান, কয়েক দিন আগে ফাহিমের মামাসহ ওই বাড়ির লোকজন হারুনকে সেখানে মাদকের আসর বসাতে বাধা দেন। বাধা উপেক্ষা করে হারুন ও তার সহযোগীরা বুধবার রাতে একই জায়গায় মাদকের আসর বসান। এ সময় ফাহিমের নানার বাড়ির লোকজন ধাওয়া করলে মাদকসেবীরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, কিছুক্ষণ পর হারুন ও তার সহযোগীরা ফাহিমের নানার বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তারা ফাহিম, শাকিব (২১), রিফাত (২৩) তিনজনকে কুপিয়ে আহত করেন। গুরুতর আহত ফাহিমকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত পৌনে ১১টার দিকে সে মারা যায়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হারুন নিজেও আহত হয়। সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।