লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে গৃহবধূ মারিয়া আক্তার মীমের (১৬) মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করার অভিযোগ ও দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন গ্রামবাসী।
একপর্যায়ে গ্রামবাসীরা থানার সামনেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহত মীমের মা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
মামলায় মীমের স্বামী মাহিন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে শ্বশুর মোহাম্মদ হানিফ ও শাশুড়িকে আসামি করা হয় মামলায়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান।
এর আগে সন্ধা ৬টার দিকে রামগতি উপজেলার চর সেকান্তর এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে বিভিন্ন পরিবহনে যাত্রী ও পথচারীরা দুর্ভোগে পড়েন। পরে কয়েক শ নারী-পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রামগতি থানার সামনে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন।
মানববন্ধনে নিহতের বাবা আবদুল মালেক অভিযোগ করে বলেন, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অথচ থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পুলিশের এমন ভূমিকা এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা একেক সময় একেক সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছেন। প্রথমে তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিতে চেয়েছিলেন। আমি রাজি হইনি। পরে হত্যা মামলা করতে চাইলে তাদেরকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ওসি বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে হত্যা মামলা করার পরিবর্তে অপমৃত্যু বা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। নিহতের পরিবার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করতে সম্মত হয়। পরে মামলা তিনজনকে আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের আসলপাড়া গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে মীমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মীম পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর সেকান্তর গ্রামের আবদুল মালেকের মেয়ে।
ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী মাহিন, শ্বশুর মোহাম্মদ হানিফসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। বুধবার বিকেলে স্থানীয় আবদুল বারেক মাঝির জামে মসজিদ কবরস্থানে মীমের দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই স্বজন ও গ্রামবাসী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।



