সন্ত্রাসের জনপদ রাউজান: ২৩ মাসে ২৮ খুন, ১৮ জনই বিএনপির নেতাকর্মী

২৩ মাসে ২৮ খুন, যার ১৫টিই হয়েছে প্রকাশ্য দিবালোক ও জনসমাগমে। চট্টগ্রামের রাউজান যেন পরিনত হয়েছে খুনিদের অভয়ারণ্যে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আধিপত্যের দ্বন্দ্বে এসব ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। বিশিষ্টজনরা বলছেন, প্রভাবশালীদের কারণেই অস্থিরতা এই জনপদে।

চট্টগ্রামের রাউজান...এখন আতঙ্কের জনপদ। দিনের আলোয় গাড়ি থামিয়ে সশস্ত্র হামলা, ঘরে ঢুকে গুলি, প্রকাশ্যে হামলা- এসব ঘটনা নিয়মিত চিত্র। পরিকল্পিত এসব টার্গেট কিলিংয়ে গত ২৩ মাসে এই উপজেলায় হত্যার শিকার ২৮ জন, যার মধ্যে প্রকাশ্যে খুন ১৫টি। 

মৃত্যুর মিছিলে এবার যোগ হলেন রাঙ্গুনীয়ার যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী। এ ঘটনার পেছনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থিতা নিয়ে বিরোধের কথাই এসেছে সামনে। 

নিহত মাসুদের ভাই দিদারুল হক বলেন, ‘আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা করার কথা ছিল মাসুদের।’

গেল দুই বছরে পুলিশের সর্বোচ্চ পদে রদবদল হয়েছে চারবার। চৌকস কর্মকর্তারা আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকলেও, কেউ স্পর্শ করছে পারেনি এসব খুনিদের। 

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা প্রতিবারই তাদের মিশন শেষ করে রাউজানের দুর্গম এলাকায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। তাদেরকে ধরতে না পারার পেছনে ভৌগলিক কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’

বিশিষ্টজনদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতার শূন্যতা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আধিপত্যের দ্বন্দ্ব রাউজানকে সহিংস করে তুলেছে। যার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। 

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সৃষ্ট ক্ষমতার শূন্যতা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং স্থানীয় আধিপত্যের দ্বন্দ্ব রাউজানে সহিংসতার মাত্রা বাড়িয়েছে। আর এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা।’

এসব হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি আছে বালু, মাটি, পাহাড় দখল ও গাছ ব্যবসা নিয়ে বিরোধ। গত ২ বছরে খুনের শিকার ১৮ জনই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী।