বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় আবারও স্থল মাইন বিস্ফোরণে শফি আলম নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে ঘুমধুম সীমান্ত সড়কের ১৬ কিলোমিটার এলাকায় কাশেম রাজার ঢালার মুখ সংলগ্ন একটি সৃজিত কলা বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শফি ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী ছড়া এলাকার বাসিন্দা কালু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাশেম রাজার ঢালার মুখ থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি কলা বাগানের ভেতরের চলাচল পথে হাঁটার সময় শফি আলম একটি স্থল মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়ে। বিকট শব্দে বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে উড়ে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
বিস্ফোরণের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংয়ে অবস্থিত আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা এমএসএফ পরিচালিত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, সীমান্তবর্তী একটি কলা বাগানে স্থল মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় শফি আলম নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক প্রথমে আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। চট্টগ্রামে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ মে ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন। পরে ৯ জুন আরও একজন কৃষক একই ধরনের ঘটনায় প্রাণ হারান। এ ছাড়া ২ জুন পরিত্যক্ত মর্টারশেল নিয়ে খেলতে গিয়ে বিস্ফোরণে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়।