পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বন্দোবস্ত বন্ধ চার দশক, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা 

পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ চার দশক ধরে ভূমি বন্দোবস্ত বন্ধ রয়েছে। এতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পাহাড়ের স্থায়ী বাসিন্দারা। বৈধ দলিল না থাকায় মিলছে না ব্যাংক ঋণ, বঞ্চিত হতে হচ্ছে সরকারি নানা সুবিধা থেকে। পাহাড়ের উন্নয়নে বিরোধহীন মৌজাগুলোতে ভূমি বন্দোবস্ত চালু করা প্রয়োজন বলছেন জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসন।

পাহাড়ে বংশ পরম্পরার রীতি অনুযায়ী ভূমি ভোগদখল করে আসছেন পাহাড়ি-বাঙালি বসবাসকারীরা। ঘর আছে, জমি আছে, আছে বসবাসের অধিকার, কিন্তু সেই জায়গার নেই লিখিত দলিল। 

আশির দশক থেকে পার্বত্য জেলাতে শুরু হয় ভূমি অধিকার নিয়ে বিরোধ। উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন সরকার ভূমি বন্দোবস্ত বন্ধ করে দেয়। এরপর চার দশকেও তা সমাধান না হওয়ায় বিঘ্নিত হচ্ছে সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ নানা কাজকর্ম।

স্থানীয় একজন বাঙালি পুরুষ বলেন, ভয়ভীতিতে আছি। ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারতেছি না। কোনো জায়গা বন্ধক দিয়ে টাকা নিয়ে ব্যবসা–বাণিজ্য করতে পারতেছি না। 

একজন পাহাড়ি বলেন, জায়গা যদি মালিকানায় হতো, সরকা যদি বন্দোবস্ত দিত, এতে জনগণের উপকার হতো। 

পাহাড়ি কিছু মৌজায় ভূমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও, বেশিরভাগ মৌজা রয়েছে সমস্যার বাইরে। এসব এলাকার বাসিন্দারা চান নিজেদের দখলীয় ভূমির স্থায়ী বন্দোবস্ত।

সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা বলেন, যেখানে ঝামেলা নাই, ওখানে তো ভূমি বন্দোবস্ত হতে পারে। যদি সরকার চায় সেটা দেওয়া যেতে পারে। যেসমস্ত মৌজায় বিরোধ নাই, সেক্ষেত্রে স্থানীয়রা ওই সুযোগটা পাবে। 

তিনি আরও বলেন, যেসব মৌজায় কোনো বিরোধ নেই, সেখানে বন্দোবস্ত চালু করতে বাধা কোথায়? মানুষ তো নিজের জমিতেই পরবাসী হয়ে আছে। বিরোধহীন জমিতে দ্রুত বন্দোবস্ত দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

পাহাড়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় ভূমি বন্দোবস্ত চালু হওয়া জরুরি বলছে স্থানীয় প্রশাসন। এজন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ দরকার বলে মনে করেন জেলা প্রশাসক।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, এটা আসলে স্থানীয়ভাবে সমাধান হবে না। এখানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়েরও হস্তক্ষেপ লাগবে। জমি ভোগ–দখলের যে সমস্যাগুলো আমরা অহরহ পাচ্ছি, এগুলো নিষ্পত্তি সম্ভব হবে। 
 
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই শান্তির জন্য ভূমি বন্দোবস্ত নিয়ে অচলাবস্থা নিরসন করা জরুরি বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা।