চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে রাতের আঁধারে তেল চুরির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে নৌ পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি অয়েল ট্যাংকার, ১২ হাজার ৭০০ লিটার চোরাই ডিজেল এবং তেল চুরির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সদরঘাট নৌ থানা পুলিশ।
নৌ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা ডিজেল, অয়েল ট্যাংকার ও অন্যান্য মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা।
শুক্রবার রাত ২টা ৪৫ মিনিটে কর্ণফুলী নদীর চট্টগ্রাম বন্দর থানাধীন ৬ নম্বর ভেসেল পয়েন্ট জেটি-সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। নৌ পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার বি. এম. নুরুজ্জামানের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই মো. মোজাম্মেল হোসেন, এসআই মুহাম্মদ আরিফুল আলম অপু এবং সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে ওটি ইশরাত (এম-২৫৩৭৩) নামের একটি অয়েল ট্যাংকারে তল্লাশি চালিয়ে ১২ হাজার ৭০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। জব্দ করা ডিজেলের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা। এ সময় ডিজেল পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় ট্যাংকারে থাকা সুপারভাইজার, মাস্টার ও স্টাফসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে তেল চুরির কাজে ব্যবহৃত দেড় ইঞ্চি পাইপসংযুক্ত একটি পাম্প মোটরও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— আরিফুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম ওরফে ইশাদ, মো. আব্দুল হালিম, মো. নুরুল মোস্তফা, জালাল আহমদ ও মো. নুরুল আমিন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কর্ণফুলী নদী ও আশপাশের ঘাট এলাকায় চোরাই ডিজেল কেনাবেচা করে আসছিলেন। ঘটনার রাতে অজ্ঞাতনামা এক থেকে দুই ব্যক্তির সহায়তায় বিভিন্ন উৎস থেকে অবৈধভাবে ডিজেল সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাংলাবাজার ঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন তারা।
নৌ পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে আরিফুল ইসলাম চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানায় ২০১৭ সালে দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এছাড়া মো. আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে ফেনীর ছাগলনাইয়া থানায় দুটি ডাকাতি ও তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় সদরঘাট নৌ থানার এসআই মো. মোজাম্মেল হোসেন বাদী হয়ে গ্রেপ্তার ছয়জন এবং অজ্ঞাতনামা এক থেকে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নৌ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদীপথে চোরাচালান, তেল চুরি এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম সদরঘাট নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জব্দ হওয়া ডিজেল ও ট্যাংকারসহ উদ্ধার করা মালামালের মোট মূল্য প্রায় এক কোটি ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে কর্ণফুলী নদী এলাকায় চোরাই ডিজেল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।