মা-মেয়েকে ধর্ষণ, দুজনের যাবজ্জীবন

ফেনীর দাগনভূঞায় মা ও মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন এবং একজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সাইফুল ইসলাম ও নিপু কুমার দাস। তাঁদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর আসামি মো. আজাদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনই দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের বারাহীগুনী গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম জয়নাল আবেদীনের ছেলে, আজাদ মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে এবং নিপু কুমার দাস প্রভাত কুমার দাসের ছেলে। আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় আজাদ ও নিপু কুমার দাস আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১১ আগস্ট ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি দাগনভূঞা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহীম আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাহাব উদ্দিন আহমেদ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ মামলায় মোট সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৪ মার্চ উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন।