ফিফা সভাপতি ও রেফারির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় যুবক

এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলের আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ম্যাচের রেফারি ও ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ নিয়ে থানায় গেছেন এক যুবক। বুধবার রাতে নোয়াখালীর সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের মান্দারতলী গ্রামের মো. রাকিব (২২) সুধারাম থানায় এ অভিযোগ নিয়ে যান।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ধরনের অভিযোগ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে বোঝানোর পর ওই যুবক ফিরে যান।

অভিযোগকারী মো. রাকিব নিজেকে একজন সাধারণ ও আইন মান্যকারী ফুটবল সমর্থক উল্লেখ করে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় শাস্তির দাবি জানান। ফিফার সভাপতি ও ম্যাচ রেফারি ছাড়াও আরও ১৫/২০ জন ওই ঘটনায় জড়িত বলে লিখত অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

অভিযোগে রাকিব উল্লেখ করেন, গত ৭ জুলাই তিনি এবং তার এলাকার অন্যান্য ক্রীড়ামোদী শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্থানীয় করমুল্যা বাজারে বসে পর্দায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের মিসর বনাম আর্জেন্টিনার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি উপভোগ করছিলেন। খেলা চলাকালীন ম্যাচের শুরু থেকেই রেফারি এবং ফিফা সভাপতি সুপরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে নানামুখী প্রতারণা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের আশ্রয় নেন।

রাকিবের দাবি, ম্যাচের মাত্র ১৪ মিনিটে মিসর একটি দর্শনীয় গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পরপরই রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরে ফিফা সভাপতির প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এর ঠিক ৫ মিনিটের মাথায় তিনি আর্জেন্টিনাকে সম্পূর্ণ অন্যায্য একটি পেনাল্টি উপহার দিয়ে খেলায় সমতা আনেন। পরবর্তীতে ম্যাচের ২৫ মিনিটে মিসর দলের আরেকটি বৈধ গোল রেফারি প্রথমে মেনে নিলেও, মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় রহস্যজনক কারণে তা বাতিল ঘোষণা করেন, যা কোটি কোটি মিসর সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দেয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ম্যাচের শেষভাগে মিসরীয় ফুটবলাররা পুনরায় গোল করার চেষ্টা করলে রেফারি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের খেলোয়াড়দের একের পর এক হলুদ কার্ড এবং মিসরের প্রধান কোচকে অন্যায়ভাবে লাল কার্ড প্রদর্শন করে হয়রানি করেন। এতে মিসর দলের খেলোয়াড়দের মনোবল ভেঙে পড়ে এবং আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচ জয়ের পথ সুগম করে দেওয়া হয়।

অভিযোগ নিয়ে থানায় যান মো. রাকিব। ছবি: সংগৃহীতবাদী দাবি করেন, ফিফা কর্তৃপক্ষের এমন চরম পক্ষপাতিত্ব এবং রেফারিংয়ের নামে জালিয়াতির কারণে তিনি এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মিসর সমর্থক চরম হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছেন। এই মানসিক আঘাতের ফলে অনেক সমর্থকের সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই অপূরণীয় ক্ষতির কারণেই ফিফা থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিবাদীদের বিচারের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে রাকিব আরও বলেন, আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচটি দেখার পর থেকে তিনিসহ তার অভিযোগের সাক্ষীরা চরমভাবে ভেঙে পড়েছেন। এই অন্যায়ের বিচার হওয়া উচিত। যার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ না করায় তিনি একই অভিযোগ নিয়ে আদালতে যাবেন, প্রয়োজনে মানববন্ধনসহ অন্যান্য প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করবেন।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমাদের নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি বুঝিয়ে বললে ওই তরুণ ফিরে যান।’