চাঁদপুরে নিজ ঘরে ডাকাতের হামলায় গৃহবধূ নিহত, আরেকজন আহত

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গভীর রাতে নিজ ঘরে ডাকাতের হামলায় রিগান আক্তার মিম (২৬) নামের গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ সময় ডাকাতদের হামলায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার (২৪)।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাত্তলা গ্রামের বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিগান আক্তার মিম ওই গ্রামের মৃত সেলিম বেপারীর পুত্রবধূ। তার আড়াই বছরের এক মেয়ে এবং চার মাস বয়সী এক ছেলে রয়েছে। তার স্বামী রনি ঢাকায় চাকরি করেন। ঘটনার সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল।

আহত গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার জানান, গভীর রাতে মুখ বাঁধা দুই ব্যক্তি তাকে ও তার শিশুকে ছুরির মুখে জিম্মি করে ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দিতে বলে। তিনি আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বাঁধা দিলে ডাকাতরা তার ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে ফেলে এবং হাতুড়ি দিয়ে মাথায় দুই দফা আঘাত করে। পরে তার কানের দুল, আলমিরা থেকে আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে যায়। 

পরিবারের সদস্য নুরুল ইসলাম জানান, রাতে তিনি বাড়ির লোহার গেটে তালা লাগিয়ে চাবি টেবিলের ওপর রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। চিৎকার শুনে জেগে উঠে গেট খুলতে গিয়ে দেখেন গেটটি ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। 

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়ার ঘোষণা দেয়। স্থানীয়রা গেইট খুলে ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধূর মৃতদেহ দেখতে পায়। 

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী। পরে আলামত সংগ্রহ ও মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। 

ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী বলেন, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।