নোয়াখালীতে একটি বাসায় চুরি করতে এসে দেখে ফেলায় এক স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
আজ বুধবার সকাল ৮টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম রাজারামপুরে বসুন্ধরা কলোনীর পাশে টুনি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম।
এ ঘটনায় আহত স্কুলছাত্রীর নাম আফরা ইভনাত (১২)। সে ওই এলাকার এবিএম মোকাররম হোসেনের মেয়ে এবং হরিনারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রির।
তার হাতে, পিটে, বুকে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো কিছু নিয়ে জখম করা হয়। তাকে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতোলে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আটক যুবক নিজেকে জিসান ও মেহেদি এ দুই নামে পরিচয় দিয়েছে এবং বাড়ি কুমিল্লার শাসনগাছা এলাকায় বলে জানিয়েছে।
আহত স্কুলছাত্রী আফরা ইভনাত ও তা বাবা-মা জানিয়েছেন, সকাল ৮টার দিকে ইভনাত স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। এ সময় বাবা-মা বাসার বাইরে ছিলেন। হঠাৎ বাসার একটি কক্ষে অপরিচতি তরুণকে দেখে চিৎকার দিয়ে উঠে ইভনাত। এরপর ওই তরুণ চলে যাওয়ার সময় তাকে ঝাপড়ে ধরার চেষ্টা করে সে। এ সময় ইভনাতকে ধারালো কিছু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে পালিয়ে যায় সে। পরে ইভনাতের আত্মচিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর পাশের একটি বাসা থেকে গায়ে কাদা মাখা অবস্থায় ওই তরুণকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। এ সময় সে নিজেকে মাদক বিক্রেতা পরিচয় দেয়। তার ভাষ্য, গত রাতে সে আন্তঃনগর উপকূল একপ্রেস ট্রেনে কুমিল্লা থেকে গাঁজা নিয়ে নোয়াখালী ষ্টেশনে নামে। সেখানে প্লাটফমে সাদ্দাম নামের এক যুবকের কাছে গাঁজাগুলো বিক্রি করে। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেলে বসুন্ধরা কলোনীর পাশ দিয়ে পালাচ্ছিল সে।
সুধারাম মডেল থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় লোকজন ওই তরুণেকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



