নোয়াখালীতে বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, আটক ২

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় মাদকসেবনের প্রতিবাদ করায় মো. ফারুক ওরফে শহীদ (৫০) নামের এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই যুবককে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে সুন্দলপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা বাজার সংলগ্ন পল্লী বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া।

আটক যুবকেরা হলেন– মধ্য সুন্দলপুর গ্রামের আল আমিনের ছেলে মো. আরশাদ আকাশ (২৪) ও দুলাল মিয়ার ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন আকাশ (১৯)।

নিহত মো. ফারুক ওরফে শহীদ উপজেলার মধ্য সুন্দলপুর গ্রামের চৌধুরী মিস্ত্রির ছেলে। তিনি সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক এবং স্থানীয় তেঁতুলতলা বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের বড় ছেলে মো. ইমরান হোসেন জানন, আকাশ আগে মাঝে মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন এবং এলাকায় চিহ্নিত মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। গত মঙ্গলবার রাতে তেঁতুলতলা বাজারের একটি দোকানে মাদকসেবন নিয়ে তাঁর বাবা ফারুকের সঙ্গে দুরব্যবহার করেন আকাশ। এ সময় আকাশকে ঘাড় ধরে দোকান থেকে বের করে দেন তাঁর বাবা ফারুক।

ইমরান আরও জানান, পরদিন বুধবার সকালে আকাশ কয়েকজনের কাছে তাঁর বাবা ফারুককে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেন। রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় পথরোধ করে তাঁর বাবার মেরুদণ্ডে ছুরিকাঘাত করেন আকাশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে চৌমুহনী চৌরাস্তা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সে তার মৃত্যু হয়।

কবিরহাট থানার ওসি রোমেল বড়ুয়া বলেন, মাদকসেবনের প্রতিবাদ করার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।