ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মিড-ডে মিল কর্মসূচির খাবারে পচা ডিম-কলা ও বাসী রুটি দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব খাবার শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। যদিও শিক্ষা কর্মকর্তারা অভিযোগ নাকচ করেছেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও ঝরেপড়া রোধে মিড-ডে মিল কর্মসূচি গ্রহণ করে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নবীনগর উপজেলার ২১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল চালু করা হয়। এসব বিদ্যালয়ে প্রায় ৫৫ হাজার শিক্ষার্থী পাচ্ছে রুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট।
অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের খাবার এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ও মানসম্মত খাবার পাচ্ছে না। নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে বিস্কুট ও কলা দেওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদাররা বিস্কুট না দিয়ে শুধু কলা দিচ্ছে।
এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, দুর্গন্ধের কারণে খাবার খেতে পারেনি তারা।
আরেক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুলে দেওয়া দুধ খেলে পেটে সমস্যা হয়। দুধ খাওয়ার পর তার বোনের পাতলা পায়খানা হয়েছে।
এক শিক্ষিকা বলেন, বিস্কুট আর কলা দেওয়ার কথা ছিল। বিস্কুট দেয়নি, শুধু কলা দিয়েছে।
আরেক শিক্ষিকা বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে বিস্কুট আসে না। শিক্ষার্থীদের শুধু কলা দেওয়া হচ্ছে।
তবে শিক্ষা কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মিড-ডে মিল নিয়ে তাদের কাছে কোনো অভিযোগ নেই। অধিদপ্তর থেকে নিয়োগকৃত ঠিকাদার এসব খাদ্য সরবরাহ করছে।
নবীনগর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মানিক ভূইয়া বলেন, এসব খাবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়োগ করা ঠিকাদার সরবরাহ করে থাকে। তারা খাবার বিলিও করছে। খাবার সরবরাহ ঠিকমতোই হচ্ছে। নিয়মমাফিক খাবার দিয়ে যাচ্ছে।
মিড-ডে মিল কার্যক্রমে গাফেলতি ও অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে প্রশাসন।