কুমিল্লার তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের নতুন ভাটেরারচর গ্রামে চর দখলকে কেন্দ্র করে মেঘনা উপজেলার চরবিনোদপুর গ্রামবাসীর মধ্যে টেঁটাযুদ্ধ হয়েছে। এসময় মেঘনা উপজেলার এক নরী গলায় টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।
তিতাস উপজেলার নতুন ভাটেরারচর গ্রামে রোববার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে মেঘনা ও তিতাস উপজেলার অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।
নিহত কোহিনুর বেগম (৪৫) মেঘনা উপজেলার চরবিনোদপুর গ্রামের মো. কাবিল মিয়া স্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম।
এলাকাবাসী বলছে, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তিতাসের নতুন ভাটেরার চরের অন্তত ২০টি বাড়ি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। এর আগেও এই চর দখল নিয়ে দুই পক্ষের মারামারির হয়।
মেঘনা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, কাঠালিয়া নদীর দক্ষিণ পাড়ে এবং নতুন ভাটেরারচর গ্রামের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে একটি চর দখল নিয়ে মেঘনার চরবিনোদপুর ও তিতাসে নতুন ভাটেরারচর গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টেঁটাযুদ্ধ, লুটপাট ও ভাংচুর হয়ে আসছে। এরই জেরে আজ বিকেলে মেঘনা উপজেলার চরবিনোদপুর ও আলীপুর এবং তিতাসের নতুন ভাটেরারচর গ্রামবাসী আবারও সংঘর্ষে জড়ায়।
অভিযোগ রয়েছে, মেঘনার লোকজন দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নৌকাযোগে তিতাসে আগে হামলা চালায়। খবর পেয়ে দুই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। তবে নতুন ভাটেরারচর গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আবারও যেকোনো সময় বড় ধরনের লুটপাট ও ভাংচুরের আশঙ্কা করছেন নতুন ভাটেরারচর গ্রামের নারী–পুরুষ। তিতাস ও মেঘনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।
তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক জানান, দুপক্ষের সংঘর্ষ এড়াতে মেঘনা ও তিতাস দুই থানার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। যে নারীর মৃত্যু হয়েছে তিনি মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা। বিষয়টি যেন স্থায়ী সমাধানের দিকে যায় সেজন্য কাজ করছে প্রশাসন।
তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুপস্থিততে দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানিয়া আক্তার লুবনা জানান, আগেও দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে এই চর দখল নিয়ে মারামারি হয়েছে। এবারও যখন মারামারি হয়েছে আমরা আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। দুই উপজেলা প্রশাসন ও থানা থেকে যেন পরবর্তীতে আর কোনো সংঘর্ষ না জড়ায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানিয়া আক্তার লুবনা আরও বলেন, এই চরের বন্দোবস্ত নিয়ে যেকোনো আইনি জটিলতা নিরসনে আমরা দুই উপজেলাবাসীদের সঙ্গে আবারও কথা বলে ব্যবস্থা নেব।