চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে কম খরচে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবাদানকারী স্যান্ডোর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস লিমিটেডের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১০ বছর মেয়াদী চুক্তি শেষ হচ্ছে নভেম্বরে। এতে বিপাকে পড়ার শঙ্কায় কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনরা। তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বহাল রাখার আভাস চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পরিচালকের।
কম খরচে কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য রোগীদের অন্যতম ভরসা চট্টগ্রাম মেডিকেলের নিচতলায় স্যান্ডোর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস লিমিটেডের এই সেন্টার।
পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় ২০১৬ সালে চালু হয় কার্যক্রম। প্রতি ডায়ালাইসিসে সেশন ফি ৩ হাজার ৩৯৭ টাকা আর সিঙ্গেল ডায়ালাইজার ফি ১ হাজার ৩২০ টাকা। সরকারি ভর্তুকি সুবিধায় ৬২১ টাকায় সেবা পাচ্ছেন অনেক রোগী। এবছর নভেম্বর পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ হওয়ায় দুশ্চিন্তায় সেবাপ্রার্থীরা।
এক রোগীর স্বজন বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালে আমাদের অনেক টাকা চলে গেছে। এখানে এসে আমরা অনেক আশার আলো দেখছি।
হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করা এক রোগী বলেন, এটা যেন বন্ধ না হয়। এটা যেন চালু রাখে। এবং আরও দুয়েকটা যেন চালু করে। এটাই আমরা চাই।
স্যান্ডোর কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রায় একদশক ধরে বছরে অন্তত সাড়ে ছয়শো রোগী সেবা পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ভর করছে সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর।
স্যান্ডোরের সহকারী ব্যাবস্থাপক তায়েফ রহমান বলেন, সরকারের সঙ্গে আমাদের ১০ বছরের চুক্তি। নভেম্বরের ২৯ তারিখে আমাদের কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত সরকারকে জানিয়েছি। বাকী সিদ্ধান্ত সরকারের।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিবছরই স্যান্ডোর সার্ভিস চার্জ বাড়ানোয় সরকারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। তারপরও কেন্দ্রটি টিকিয়ে রাখতে আলোচনা চলছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলীম উদ্দিন বলেন, ২০১৬ সালে এটা শুরু হয়েছিল ১ হাজার ৭০০ টাকার চেয়ে একটু বেশি রেটে। এরা প্রতিবছর এই রেট ৫ শতাংশ হারে বাড়াচ্ছে। অথচ বিদ্যুৎ আমাদের, পানি আমাদের। সবকিছু আমাদের। এখন ডায়ালাইসিস রেট ৩৭ টাকার বেশি। এভাবে বাড়তে থাকলে সরকারের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। এখন সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।
প্রতিষ্ঠানটিতে ৩১টি যন্ত্রের মাধ্যমে ডায়ালাইসিস সেবা দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেলে ২০ শয্যার কিডনি ওয়ার্ডে এই সেবা চালু থাকলেও রোগীর সংখ্যার তুলনায় তা পর্যাপ্ত নয়।



