এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দুদিন আগে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যায় শিহাব। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে সেই শিহাবই পেয়েছে গোল্ডেন জিপিএ-৫। সন্তানের এমন সাফল্যের দিনে ঘরে নেই সে। আনন্দের বদলে একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে কাতর পরিবার।
নিহত শিহাব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মানরা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। সে ঢাকার বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, শিহাবের বাবা তোফাজ্জল হোসেন ঢাকায় গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরিবারের একমাত্র ছেলে শিহাব দুটি ছোট বোনের বড় ভাই। ছোট ভাই তাজুল ইসলামের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আসে তারা।
শনিবার দুপুরে গোসল শেষে বাড়ির ছাদে কাপড় শুকাতে যায় শিহাব। এ সময় বিয়ের অনুষ্ঠানের ডেকোরেশনের জন্য টানানো রঙিন বাতির তারে বিদ্যুতায়িত হয় সে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার সন্ধ্যায় গ্রামের বাড়িতে শিহাবের মরদেহ দাফন করা হয়।
শিহাবের চাচা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘চাকরির কারণে শিহাবের পরিবার ঢাকায় থাকত। চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। শিহাব ছিল তার বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। তার দুটি ছোট বোন রয়েছে।’
সোমবার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জানা যায়, শিহাব গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফল প্রকাশের দিন তার এই সাফল্যে স্বজনদের আনন্দিত হওয়ার কথা থাকলেও একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে পরিবারে নেমে এসেছে নীরবতা।
শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন, ‘চাচার বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে শিহাবের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এর মধ্যে আজ এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে। শিহাব গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন শোকাহত।’
তিনি জানান, শিহাবের মৃত্যুতে মঙ্গলবার পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নি ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’