মাদক কারবারির সঙ্গে যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগে চাঁদপুরের শাহরাস্তি মডেল থানার ৫ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। চাঁদপুর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করেন।
বিষয়টি বৃহস্পতিবার বিকেলে নিশ্চিত করেন কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল হাই চৌধুরী। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। চূড়ান্ত তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাময়িক বরখাস্তকৃতরা হলেন– এসআই আরিফ হোসাইন, এএসআই শহীদ উল্লাহ, কনস্টেবল শরিফ উদ্দিন, কনস্টেবল ইসতিয়াক ও গাড়িচালক নজরুল ইসলাম।
গেল ২৮ জুলাই শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলী এলাকায় স্থানীয়দের হাতে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি আটক হন। স্থানীয়দের অভিযোগ তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। আটকের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথন, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ভয়েস ক্লিপ ও অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়ার দাবি করেন স্থানীয়রা।
২৯ জুলাই বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শাহরাস্তিসহ চাঁদপুরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপর জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হলে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ৩০ জুলাই কচুয়া সার্কেলের এএসপি মো. আবদুল হাই চৌধুরী জানিয়েছিলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
পুলিশ সূত্র জানায়, তদন্ত চলাকালে এএসআই শহীদ উল্লাহকে ৩ আগস্ট এবং কনস্টেবল শরিফ উদ্দিনকে ৫ আগস্ট কুমিল্লায় বদলি করা হয়। পরে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পাঁচজনের বিরুদ্ধেই সাময়িক বরখাস্তের আদেশ আসে।