নোয়াখালীতে হাতে ওয়াকিটকি নিয়ে সিআইডি পুলিশের জ্যাকেটের আদলে পোশাক পরে সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে এক নারীকে বাসা থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টাকালে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ সময় তাদের কাছ থেকে সিআইডি পুলিশের জ্যাকেটের আদলে তৈরি চারটি জ্যাকেট, তিনটি ওয়াকিটকি ও একটি এক্স-নোহা গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ তথ্য বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম।
এর আগে, বুধবার মধ্যরাতে নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বসুন্ধরা কলোনীর ব্রাইট হাউজ থেকে ওই নারীকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়।
এ সময় গ্রেপ্তাররা হলেন লক্ষ্মীপুরের শুভ চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, রাজশাহীর অবসরপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, বগুড়ার সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আবুল কাশেম সোহেল, চট্টগ্রামের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরেল মো. শাহাদাত হক খান চৌধুরী, ফেনীর মো. নাদির এবং ঢাকার মো. শরীফ মিয়া।
পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে মো. আতাউর রহমান নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, কয়েকজন ব্যক্তি সিআইডি পুলিশ পরিচয়ে বাসায় ঢুকে তার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে সুধারাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
এ সময় জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম সোহেল ও শাহাদাত হক খান চৌধুরীকে সিআইডি পুলিশের জ্যাকেটের আদলে তৈরি জ্যাকেট পরা এবং হাতে ওয়াকিটকি থাকা অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। পরে শুভ চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও মো. নাদিরকেও ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে তিনটি জ্যাকেট ও তিনটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। পরে বাসার সামনে থাকা ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-৮২৪৫ নম্বরের একটি এক্স-নোহা গাড়ি থেকে মো. শরীফ মিয়াকে আটক করা হয়। ওই গাড়ি থেকেও পুলিশের ব্যবহৃত জ্যাকেটের আদলে তৈরি আরও একটি খাকি রঙের জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আতাউর রহমানের মেয়ের (তাসনীমুল জান্নাত ওরফে মালিহার) সঙ্গে গ্রেপ্তার শুভ চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলামের বিয়ে হয়েছিল। গত ২১ জানুয়ারি তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়।
এরপর গতকাল রাতে জাহাঙ্গীর আলম, আবুল কাশেম সোহেল ও শাহাদাত হক খান চৌধুরী সিআইডি পুলিশের জ্যাকেটের আদলে তৈরি পোশাক পরে ও ওয়াকিটকি হাতে নিজেদের সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে আতাউর রহমানের বাসায় প্রবেশ করেন। পরে শুভ চৌধুরী, রুবেল হোসেন ও নাদিরও সেখানে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তারা তাসনীমুল জান্নাত ওরফে মালিহাকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাদের আটক করেন।
ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারদের আজ বিকেলে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।