ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হঠাৎ ‘মেয়র পদে’ ভোট, নেপথ্যে কী 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দেবগ্রামের পুরুষরা ভোট দিয়ে মেয়র প্রার্থী ঠিক করেছেন। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে গ্রামের একক প্রার্থী হয়ে লড়বেন তিনি। যদিও এখন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। শনিবার ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। এরপর ফল ঘোষণা করা হয়। 

গ্রামে ৩ সহস্রাধিক পুরুষ ভোটার থাকলেও নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ১৪৭৪ জন। প্রতিদ্বন্ধী ৩ প্রার্থীর মধ্যে বেলজিয়াম প্রবাসী রুহুল আমিন খান সুমন (ছাতা) ৭৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অন্য দুই প্রতিদ্বন্ধী মো. ফয়েজ আহমেদ (ফুটবল) প্রতীকে পেয়েছেন ৫১৫ ভোট এবং শেখ আমজাদ হোসেন (মোরগ)  ২২৩ ভোট পান। 

আগামী পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামে একক প্রার্থী ঠিক করতে গত মে মাস থেকে গ্রামটিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়। গঠন করা হয় নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণা করা হয়। এরপর প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা নেমে পড়েন প্রচারে। পুরোদস্তর এক ভোটের আয়োজন! অবশ্য দেবগ্রাম আর্থ সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন নামে এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। 

নির্বাচনের একজন সহকারী নির্বাচন কমিশনার বলেন, কাগজে-কলমে আমরা নাম দিয়েছি- ‘দেবগ্রাম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন-২০২৬। অর্থাৎ দেবগ্রামের যতো কাম-কাজ আছে, উন্নয়নমূলক কাজ, যেকোনো কাজে এই সভাপতি সভাপতিত্ব করবেন। এমনও আছে যদি মেম্বার বা চেয়ারম্যানে দাঁড়ায় আমরা তাকে আগাইয়া দিমু। এখন আমরা একটা সভাপতি বানামু। তারেই আমরা পরে মেয়র বা যেখানেই হোক পাঠামু। 

সহকারী কমিশনার আরও বলেন, মেয়র ইলেকশন করতে প্রথমে ৬ জন আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা এক হতে পারছিলেন না। আমাদের কাছে আসার পর তাদের বলি-‘তোমরা একজন হও।’ তখন তারা বলল, পুরুষ ভোটারের ভোট দিয়ে একজন বানিয়ে দেন। এরপরই আমরা কাজ শুরু করলাম। গ্রামবাসী বড় একটা কমিটি করেন। ওই কমিটি বাছাই করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং ১০/১২ জনকে সহকারী নির্বাচন কমিশনার। আমরা তফসিল ঘোষণা করি। নির্বাচনী আচরণবিধি বানাই। পৌরসভার বড় গ্রাম হিসেবে একক প্রার্থী হলে জয় পাওয়া সহজ হবে সেজন্য আয়োজন এই নির্বাচনের। এরআগেও একক প্রার্থী দিয়ে সুফল পেয়েছেন গ্রামবাসী।  

দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ভোটারদের শৃঙ্খলিত লাইন। ভেতরে বেঞ্চে বসা পুলিং অফিসার, পুলিং সহকারী। তাদের হাতে ছাপানো ব্যালট পেপার। টেবিলে ভোটের বাক্স, একপাশে পর্দা ঘেরা গোপন ভোটকক্ষ। ভোটার কক্ষে  প্রবেশ করতেই নাম–পরিচয় নিশ্চিত হয়ে একজন আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি দিয়ে দিচ্ছেন আরেকজন এগিয়ে দিচ্ছেন ব্যালট পেপার। ব্যালট নিয়ে গোপন কক্ষে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে সিল দিয়ে  ব্যালট বক্সে ফেলছেন। একটি নির্বাচনের সকল প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভোটগ্রহণ করা হয়। প্রার্থীদের এজেন্টও ছিলেন। নির্বাচনে শান্তি শৃঙ্খলায় দায়িত্ব পালন করেন পুলিশ সদস্যরা। 

নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার কাজী মো. তারেক জানান, মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ২৭০জন।  এরমধ্যে বেলা ৩টা পর্যন্ত ১ হাজার ১৩১জন ভোট দেন।  

নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহাম্মদ খান জানান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

বিদ্রোহী হলে যে ব্যবস্থা
ভোটে গ্রামের প্রার্থী ঠিক হওয়ার পর কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে হারাতে হবে ৫ লাখ টাকা। নির্বাচনের প্রার্থীদের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা করে জামানত ও আমানত নেওয়া হয়।  

নির্বাচন আয়োজকরা জানান, নির্বাচনের খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা অফেরতযোগ্য। আর ৫ লাখ টাকা হলো ফেরতযোগ্য। ভোটে গ্রামবাসীর সিলেকশনের পর যদি কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হন তাহলে এই টাকা আর ফেরত পাবেন না। এই টাকা গ্রামের উন্নয়নে খরচ হবে। এর আগে একজন বিদ্রোহ করেছিলেন। তার জামানত ছিল না। সেজন্য তাকে ধরতে পারেনি। এবার ধরার জন্য জামানত রাখা হয়েছে।