বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদক সাপ্লাইয়ারদেরও আমার সন্দেহ হয়: অপ্রতিমের মা

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদক সাপ্লাইয়ার যারা তাদেরকেও আমার সন্দেহ হয়। আমার ওপর তাদের রাগ থাকবেই-স্বাভাবিক। কারণ ওই সময় এই বিষয়গুলো আলোচনায় চলে আসছিল যে,  কারা হলে সাপ্লাই দেয়, কারা শহিদ মিনারে দেয়, কারা খাওয়াচ্ছে, কারা মাইনর।’—সন্তান হত্যার ঘটনার সঠিক কারণ জানতে চেয়ে এভাবে কথাগুলো বলেন অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগম।
 
এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ কি সেগুলো তিনি ধারণা করতে পারলেও, তদন্তকারী সংস্থা খুনের আসল কারণ অনুসন্ধান করে সত্য প্রকাশের দাবি করছেন এই শিক্ষিকা। মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতিতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। 

ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমি একসময় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ছিলাম। সেসময় বিশ্ববিদ্যালয় অনেক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছি। সেসময় অনেককে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আমাকে একটি সূত্র বলেছে, সেসময় তুহিনের গ্যাংয়ের কেউ কেউ ধরা পড়েছিল। প্রথমদিন এই কথাগুলোই উঠে এসেছে। হয়ে থাকতে পারে তারা আমার ওপর প্রতিশোধ নিতেই ধীরে ধীরে এই পরিকল্পনা করেছে। এখন পুলিশকেই তা খুঁজে বের করতে হবে।’

আসামিদের বয়স নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ড. নাহিদা আরও বলেন, ‘যাদের অপ্রাপ্ত বয়স্ক দেখানো হয়েছে তাদের পরীক্ষা করা হোক। বয়স লুকিয়ে তাদের শাস্তি হিসেবে যদি সংশোধনাগারে পাঠানো হয় তারা বের হয়ে তখন আবার আমাদের নিরাপত্তার হুমকি হবে। তাদের ফাঁসি হলেও আমি আমার অপ্রতিমকে পাব না। কিন্তু আমি চাই আর কোনো মায়ের বুক খালি না হোক।’

অপ্রতিম অসম বয়সের ছেলেদের সঙ্গে মিশছে তা আগেই টের পেয়েছিলেন উল্লেখ করে ড. নাহিদা বলেন, ‘আমরা তাকে ব্যস্ত রাখার জন্য স্কুলের বাইরেও দুজন টিউটর রেখেছি। আমি কখনো চাই নাই আমার ছেলে ডাক্তার–ইঞ্জিনিয়ার হোক। আমি চেয়েছি আমার ছেলে সারা পৃথিবী ঘুরবে। সব নিজে নিজে চিনবে। ফটোগ্রাফি শিখুক, সাইক্লিং শিখুক। আমি যখনই শুনেছি ও এমন কারো সাথে মিশছে—আমি কিন্তু সাথে সাথে শক্ত হয়ে গিয়েছি।’

তুহিন গ্যাংয়ের সাথে অপ্রতিমের ছবি ও টিকটক প্রসঙ্গে ড. নাহিদা বলেন, ‘যখন থেকে আমি অনুভব করেছি তাদের বন্ধুবান্ধব বেশি হয়ে গেছে বা হয়ে যেতে পারে- তখন থেকেই আমাদের প্রতিরোধ ছিল। হুট করেই শুনলাম একটা সিনিয়র গ্রুপ তার সাথে মিশছে। যেহেতু আমার ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোলে কোলে বড় হয়েছে তার কাছে সিনিয়র–জুনিয়র বোধটাই নাই। ও মনে করে—সবাই ওর ভাই। সবাই ওর আপন। সবাই বলে ওর বাইকের ফেসিনেশন, কিন্তু ওর বাইকের ফেসিনেশন ছিল না। আমার নিজের বাসায়ও স্কুটি ছিল। আমি কখনোই বাইক বা স্কুটি নিয়ে বাড়াবাড়ি দেখিনি। বাইকে আগ্রহটা সম্প্রতি তৈরি হয়েছে। কেউ তাকে পুশ করে তৈরি করেছে। হয় তো তাকে চড়িয়ে দেখিয়েছে, বা কেউ ছবি তুলে দিয়েছে।’ 

অপ্রতিম গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।