কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পরিবর্তন হয়েছে। ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত করবেন।
শুক্রবার রাতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মামলার গুরুত্বের ভিত্তিতে একজন ইন্সপেক্টর পদবির কর্মকর্তা মামলার তদন্ত করবেন।’
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির প্রথমে তদন্ত শুরু করেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। শুক্রবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, এ মামলাটি এখন থেকে তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ। আজ-কালের মধ্যে মামলার যাবতীয় নথিপত্র হস্তান্তর করা হবে।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ বলেন, ‘পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ হয়েছে। নথিপত্র পাওয়ার পর তদন্ত কাজ শুরু করা হবে। আশা করি, শিগগিরই তদন্তের পর দ্রুততম সময়ে আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করতে পারব।’
এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামক এলাকার একটি জঙ্গল থেকে পুলিশ অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও অপ্রতিমের মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ এ পর্যন্ত এ হত্যায় সরাসরি জড়িত সাইফুল ইসলাম তুহিন, সিয়াম, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ, মো. কামরুল হাসান এবং জড়িত সন্দেহে মো. সিয়ামকে গ্রেপ্তার করে। ওইদিন সিয়াম ছাড়া অপর ৩ জন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। অপ্রাপ্ত বয়স হওয়ায় আদালতের আদেশে ফাহাদ ও কামরুলকে গত সোমবার গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর দুইজন কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে।