লক্ষ্মীপুরে যুবদলকর্মী গুলি করে হত্যার ঘটনায় আটক ২

লক্ষ্মীপুরে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যুবদলকর্মী ও মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে সদর উপজেলার পার্বতীনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন–ইব্রাহিম ছুট্টু ও মাসুদ রানা। ইব্রাহিম সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে। মাসুদ রানা বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাটির ব্যবসা নিয়ে খোরশেদ আলমের সঙ্গে মজিদ হোসেনের গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার দুপুরে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দিলশাদপুর খাঁনের বাড়ির পাশে একাধিক গুলি করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

খোরশেদ আলম বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে তিনি একাধিক মামলায় কারাভোগ করেন। ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় মাটির ব্যবসা শুরু করেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, বুধবার দুপুরে পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর এলাকায় খোরশেদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই এলাকার ওয়ালিদের নেতৃত্বে মান্না, ইব্রাহিম ছুট্টু, কামরুল, বাচ্চু, হিরু, জহিরসহ আরও পাঁচ-ছয়জন সংঘবদ্ধ হয়ে এলোপাতাড়ি গুলি করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। হত্যার সাথে জড়িতদের আটকে অভিযান চলছে। খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।