ঢলের পানিতে ডুবল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একটি বড় অংশ এখন পানির নিচে। ফলে এই সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

এরই মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ১৫টির মধ্যে ১৪টিতেই পানি উঠেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলায়। 

স্থানীয়রা জানান, সোমবার দিবাগত রাত ৩ টা থেকে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া এলাকায় পানি উঠতে শুরু করে। এরফলে, চট্টগ্রাম- কক্সবাজার মহাসড়ক হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কটির দুপাশেই কয়েক হাজার গাড়ি আটকা পড়ে। এতে সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। 

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাশার মো. ফখরুজ্জামান জানিয়েছেন, ফটিকছড়ি ছাড়া সব উপজেলার সড়কে পানি ওঠায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রাথমিকভাবে ৪শ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 

আটকে পড়াদের উদ্ধারে বান্দরবান ও চট্টগ্রামে সেনা এবং নৌবাহিনী কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও, রাতে বৃষ্টি কম হওয়ায় শহরের বেশিরভাগ এলাকার পানি নেমে গেছে।

অতিবৃষ্টিতে তৈরি হওয়া জলাবদ্ধতার কারণে গত ৫ দিন ধরেই পানির নিচে চট্টগ্রাম শহর। এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীর বাসিন্দারা। জলাবদ্ধতার কারণে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগরীর সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আরো দুদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বন্দরনগরীতে ৩০ বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ৩০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের নতুন রেকর্ড হয়েছে গত রোববার। এছাড়া চলতি মাসে যেখানে বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল ৫৩০ দশমিক ৬ মিলিমিটার সেখানে প্রথম ছয়দিনেই হয়েছে ৫শ ৫০ মিলিমিটারের বেশি। অতিবৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পূর্ণিমার প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত তিনফুট উঁচু জোয়ার।

এদিকে, খাগড়াছড়িতে ভারি বর্ষণের কারণে দীঘিনালার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটির লংগদুর সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন প্রায় ছয় শতাধিক মানুষ। জেলায় ১৩৩ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। 

টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন জায়গায় ২ শতাধিক স্থানে পাহাড় ধস হয়েছে। এছাড়াও লংগদু, নানিয়াচর, রাঙামাটি সদরের কুতুকছড়ি নিম্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। রাঙামাটি শহরের ৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৫ শতাধিক লোক আশ্রয় নিয়েছে। এদিকে, পিরোজপুরে ২ থেকে ৩ ফুট জোয়ারের কারণে প্রায় ৩'শ মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে।